Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফুল-পাতার রঙে কৃষ্ণ আঁকেন রুকসানা, সৃষ্টিশ্রী মেলায় পটচিত্র দেখতেই ভিড়, শ্যাম স্কোয়ারে চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

পাঁশকুড়ার রুকসানা আঁকছিলেন শ্রীকৃষ্ণের ছবি। জানালেন, পট আঁকতে তাঁরা বাজারের রং ব্যবহার করেন না। বিভিন্ন গাছের পাতা ও ফুল সংগ্রহ করেন তাঁরা।

ফুল-পাতার রঙে কৃষ্ণ আঁকেন রুকসানা, সৃষ্টিশ্রী মেলায় পটচিত্র দেখতেই ভিড়, শ্যাম স্কোয়ারে চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঁশকুড়ার রুকসানা আঁকছিলেন শ্রীকৃষ্ণের ছবি। জানালেন, পট আঁকতে তাঁরা বাজারের রং ব্যবহার করেন না। বিভিন্ন গাছের পাতা ও ফুল সংগ্রহ করেন তাঁরা। অনেক খেটে সেই প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করে তৈরি করেন রং। তা দিয়েই আঁকতে হয় পট। তবেই তা হয় মনোহর। দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়।

Advertisement

অতএব সবুজাভ পাতা গুঁড়ো করে ‘সতেজ সবুজ’। রক্ত করবীর রঙে ‘টকটকে লাল’। কল্কে ফুলের গুঁড়ো বেলের আঠায় মিশে হয় ‘উজ্জ্বল হলুদ’। বাজারের কৃত্রিম রঙে পটের ছবি মোটেও খোলে না। পটচিত্রের জন্য তাই প্রকৃতিই ভরসা। ফুলের লালে-পাতার সবুজে রুকসানাদের হাতে রূপ পান পটের শিব-লক্ষ্মী-কালী। সর্ষের হলুদে উজ্জ্বল হন পটের সূর্যদেবতা। সে রঙেই এখন উত্তর কলকাতার শ্যাম স্কোয়ার রঙিন। চলছে বাংলার শিল্পকলার প্রদর্শনী। মাঠে ‘সৃষ্টিশ্রী’ মেলা চলছে। উদ্যোগে রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। ২১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে। চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা। মেলায় বিভিন্ন স্টল। তাতে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন পটচিত্র। রামায়ণ, মহাভারত, রাধা‑কৃষ্ণের জীবনবৃত্তান্ত, একাধিক দেব‑দেবীর ছবি দেওয়া পট রয়েছে। মোটামুটি আটশো টাকার মতো দাম। বাংলার পটের কদর আছে বিদেশে। পট এবং সরা বিদেশের বহু মিউজিয়ামে সাজানো থাকে। কালীঘাটের একটি সরা হাতে পেলে এখনও বর্তে যায় বহু শিল্পসংগ্রাহক। বাংলার সেই পটটিত্র এবার শহরের মাঠে আসর সাজিয়েছে। একেবারে হাতের সামনে বাংলার বিখ্যাত শিল্পকলা। সৃষ্টিশ্রী মেলায় পটচিত্র শুধু নয় বিক্রি হচ্ছে বাঁশের টব। দেড়শ টাকার মতো দাম। এছাড়া বাঁশের কঞ্চির হাতল দেওয়া রং‑বেরঙের ছাতাও বিক্রি হচ্ছে। আছে খাবারের স্টল। মেলামাঠের সাংস্কৃতিক মঞ্চে প্রতিদিনই হচ্ছে অনুষ্ঠান। একটি স্টলে সুজন ব্যাধ বাঁশের লম্বা টব বিক্রি করছেন। বললেন, ‘প্লাস্টিক ও মাটির টবের পাশাপাশি বাঁশের টবেরও চাহিদা বেড়েছে। গৃহস্থরা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই টব কিনছে গাছ বসাতে।’ গোঘাটের শিল্পী পূর্ণিমা শীল তৈরি করছেন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঝুড়ি আর ছাতা। তিনি বলেন, ‘মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। কঞ্চি কেটে নতুন কিছু সামগ্রীও তৈরি করছি।’-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ