নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নিউটাউনের বাসিন্দা সৌভিক ঘোষাল গাড়ি নিয়ে চলে এসেছেন ডায়মন্ডহারবারে। নদীর ধারে সারি দিয়ে বসে ইলিশ বিক্রেতারা। সাজিয়ে রাখা রূপোলি শস্য দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছে তাঁর। হাই পাওয়ারের এলইডি বাল্বের আলোয় মাছের গা চিকচিক করছে। সাইজ দেখে দরদাম করে ইলিশ ব্যাগে ভরে বাড়ি রওনা দিলেন। যাওয়ার আগে বললেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি ডায়মন্ডহারবারে ভালো ইলিশ পাওয়া যায়। তাই প্রথম এখান থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া বীরভূম থেকে আসা এক দল পর্যটকও গঙ্গাসাগর ঘুরে ফেরার সময় ডায়মন্ডহারবারে দাঁড়িয়ে পড়লেন। ইলিশ কিনে বাড়ির পথে রওনা দিলেন তাঁরা।
এখন বন্দর শহরে যেন চলছে অলিখিত হিলসা ট্যুরিজম। কলকাতার বাজার থেকে ইলিশ কেনার চেয়ে অনেকেই ডায়মন্ডহারবারে এসে তা কিনে বাড়ি ফিরছেন। ক্রেতারা যে শুধু শশরীরে বিক্রেতাদের সামনে এসে দরদাম করছেন, এমনটা নয়। একাধিক বিক্রেতার কাছে ভিন জেলা ও রাজ্য থেকেও ফোন আসছে। মাছ প্যাক করে পাঠিয়ে দেওয়ার অর্ডার দিচ্ছেন মাছ প্রিয় বাঙালিরা। পেমেন্ট হচ্ছে অনলাইনেই। দীপঙ্কর গায়েন নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বললেন, বড় মাছের চাহিদা ভালোই রয়েছে। তবে একশ্রেণির ক্রেতা ছোট-বড়, দু’ধরনের ইলিশই কিনছেন। কলকাতা, ধানবাদ, বর্ধমান ইত্যাদি জায়গা থেকে মানুষজন আসছেন এখানে। বিকেলের পর থেকেই নদীর পাড় ধরে ক্রেতাদের ভালো ভিড় লেগে যায়। এমনকী মাঝেমাঝে গাড়ি চলাচলও থমকে যায়।
ডায়মন্ডহারবারে মাছের জন্য ক্রেতারা ছুটে এলেও, এখানে যে দাম খুব কম, এমনটা নয়। যেমন এক থেকে দেড় কেজির মাছ কেজি পিছু প্রায় ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০-৮০০ গ্রামের মাছ হাজার টাকা কেজি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। তবুও কেন এখানে ভিড় করছেন ক্রেতারা? অনেকেই বলেন, টাটকা মাছ পাব, এই আশায় এখানে আসা। কলকাতার বাজারে অনেক হাত ঘুরে মাছ ঢোকে। কিন্তু সমুদ্র থেকে সরাসরি মাছ আসছে ডায়মন্ডহারবারে। তাই এখানে ভালো মাছ মিলবেই। এই মরশুমটা ব্যস্ততায় কাটে বন্দর শহরের নদীর পাড় এবং সংলগ্ন নগেন্দ্রবাজার। মাছের চাহিদা অনুযায়ী আড়ত থেকে দোকানে চলে আসে ক্রেট ভর্তি হিলসা। সঙ্গে অবশ্য অন্য মাছও থাকে। কিন্তু পর্যটকদের নজর থাকে ওই একটি মাছের দিকেই, কারণ জলের রুপোলি ফসল বলতে তো ওই মাছটিকেই বোঝেন সকলে।