নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজোর দ্বিতীয় দিনে ভিড়ের ঢল নামল হুগলির কার্তিক নগরীতে। সোমবার দুপুরের পর থেকেই বাঁশবেড়িয়ায় ভিড়ের দাপট দেখা গিয়েছে। ট্রেন থেকে সড়কপথ, জলপথে অবিরাম মানুষের আসা-যাওয়া দেখেছে সাবেক বন্দরশহর সপ্তগ্রামের বাঁশবেড়িয়া। নানা থিমের বাহার, রকমারি নাম ও আকারের কার্তিক, আলোকসজ্জার নতুন সাজ, দু’চোখ ভরে দেখেছে ভিড়। সোমবার হুগলির পাশাপাশি দেদার ভিড় করেছিলেন অন্য জেলার বাসিন্দারা। বাতাসে শীতের দাপট শুরু হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যার পরে গঙ্গাপাড়ের বাঁশবেড়িয়ায় শীত শীত ভাব অনেকটাই জাঁকিয়ে বসেছে। কিন্তু তারপরেও ভিড় সামলাতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের। পুজো মরশুমের শেষপর্বের উৎসবকে ঘিরে জনগর্জনে মাতোয়ারা হয়েছে বাঁশবেড়িয়া।
ইঙ্গিত মিলেছিল রবিবারই। পুজোর প্রথম দিন হওয়ায় সন্ধ্যার পর স্থানীয়দের উৎসাহী ভিড় নজর টেনেছিল। কিন্তু রাত বাড়তেই পরিস্থিতি বদলায়। একদিকে ছুটির দিন, অন্যদিকে কার্তিক উৎসব, ভিড় ক্রমশ জমাট হয় বাঁশবেড়িয়া শহরের অলিগলি, রাজপথে।
মধ্যরাত পর্যন্ত ঢেউয়ের মতো ভিড় মুখরিত করে রেখেছিল রাজপথকে। কয়েকটি বিগ বাজেটের পুজোর প্রস্তুতি তখনও শেষ হয়নি। বাহারি আলোকসজ্জা তার সমস্ত রং নিয়ে বিকশিত হতে পারেনি। সেকারণেই সোমবার বাঁধভাঙা ভিড়ের প্রত্যাশা করেছিলেন উদ্যোক্তারা। বস্তুত সেই পূর্বভাসকে মিলিয়ে দিয়েই সোমবার জনজোয়ারে ভাসল বাঁশবেড়িয়ার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ। দর্শকের উল্লাসের সঙ্গে পা মিলিয়ে হাসি চওড়া হল উদ্যোক্তাদেরও। সোমবার তখন বেলা সাড়ে ৪টে। বাঁশবেড়িয়ার বসু লেনে অনির্বাণ ক্লাবের সামনে ‘বুলেট ট্রেন’ চড়তে লম্বা লাইন। ওই ট্রেনে চড়েই যেতে হবে মণ্ডপে। ঠাসা ভিড়ের মধ্যে হাসিমুখে অপেক্ষা করছিলেন প্রতিমা মণ্ডল। হালিশহর থেকে এসেছিলেন বাড়ির আরও কয়েকজনের সঙ্গে। বলেন, রাত পর্যন্ত মণ্ডপে ঘুরব। বাড়ির প্রায় সকলেই এসেছি। বৈদ্যবাটি থেকে এসেছিলেন তমাল বিশ্বাস। কুণ্ডুগলি নটরাজের মণ্ডপে সন্ধ্যার সময় ভিড়ে দাপটে ঘামছিলেন তিনি। বেসরকারি সংস্থার ওই কর্মী বললেন, রবিবারও এসেছিলাম। কিন্তু সব মণ্ডপ ঘোরা হয়নি। সোমবার ছুটি নিয়েছি প্রতিমা দেখব বলে। এমন উৎসাহ যখন দর্শক মহলে, তখন গালভরা হাসি অনির্বাণ ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তা অমিত ঘোষের মুখে। তিনি বলেন, রবিবার রাতে যেভাবে ভিড় হয়েছিল, তাতেই সোমবারের ভিড়ের ইঙ্গিত মিলেছিল।
এদিন দুপুরের পর থেকে ভিড়ের দাপট শুরু হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষ শহরে ঘুরেছেন। প্রত্যাশার থেকে অনেক বেশি ভিড় আমরা দেখেছি। বাঁশবেড়িয়া কেন্দ্রীয় কার্তিক পুজো কমিটির সভাপতি তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান অদিত্য নিয়োগী বলেন, পুজোর জাঁকজমক বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী পুজোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। তাতেই মানুষের ঢল নেমেছে। সোমবার দিনভর ভিড়ের দাপট দেখা গিয়েছে বাঁশবেড়িয়া ও সংলগ্ন একাধিক স্টেশনে। ব্যস্ততা ছিল বাঁশবেড়িয়া, চুঁচুড়ার ফেরিঘাটে। আলোয় মায়াময় হয়ে ওঠা শহর, থিমের আকর্ষণ এবং পুজো মরশুমের শেষপর্বের উৎসবের টানে জনপ্লাবন আছড়ে পড়েছে বাঁশবেড়িয়ায়।
নিজস্ব চিত্র