সংবাদদাতা, বোলপুর: সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ফুড ভ্লগারদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্ট্রিটফুড থেকে নামী রেস্তরাঁর খাবারের স্বাদ নিয়ে ভিডিও করছেন ভ্লগাররা। সেই ভিডিও দেখে খাবারের দোকান, রেস্তরাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। খেতে আসছেন বহু মানুষ। অথচ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে একের পর এক হোটেল ও রেস্তরাঁর অব্যবস্থার ছবি সামনে আসছে। শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর খাবার উদ্ধার হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
রাজ্যে পালাবদলের পর খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু করেছে। বোলপুর শহর থেকে গ্রামে খাবারের দোকান থেকে রেস্তরাঁয় চলছে পরিদর্শন। কোথাও মিলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার, কোথাও রান্নাঘরের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। খাবার সংরক্ষণেও নানা অনিয়ম মিলছে। নিয়ম না মানায় কয়েকটি দোকান বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফুড ভ্লগারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যেসব দোকানের খাবারকে ভিডিওতে ‘টেস্টি’ বলা হচ্ছে, সেখানে খাবার কতটা নিরাপদ? শুধু খাবারের স্বাদ দেখেই কি কোনো দোকানের প্রচার করা উচিত? উঠছে সেই প্রশ্ন।
অনেক ক্ষেত্রে দোকানের সামনের অংশ, খাবার টেবিল ঝকঝকে থাকে। কিন্তু রান্নাঘরে ঢুকলেই দেখা যায় অন্য ছবি। খাবার কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা ভিডিওতে অনেক সময় দেখা যায় না। ফুটপাতের খাবার নিয়েও একই প্রশ্ন রয়েছে। খোলা জায়গায় খাবার রাখা, অপরিষ্কার পরিবেশে রান্না করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এক ফুড ভ্লগার বলেন, আমরা খাবার খেয়ে তার স্বাদ দেখি। অনেক সময় পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রচার করি। কিন্তু ফ্রিজের ভিতরে কী রাখা আছে, রান্নাঘরের অবস্থা কেমন, তা সব সময় জানা সম্ভব নয়। এবার থেকে আরও সতর্ক হতে হবে। আর এক ফুড ভ্লগার আক্ষেপ করে বলেন, শহরের মধ্যে এতদিন বেশকিছু নামী দোকানে খাবার খেয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা ভালো লেগেছে বলে ভ্লগে মানুষকে সেখানে একবার যাওয়ার কথাও বলেছি। কিন্তু এখন নানা অনিয়মের ছবি সামনে আসছে। তাই ভাবছি, এতদিন কী খেয়েছি! এবার থেকে কোনো দোকানের প্রচার করার আগে শুধু খাবারের স্বাদ নয়, খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও যতটা সম্ভব খোঁজ নেব।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, খাবার সুস্বাদু হলেই হবে না। তা নিরাপদও হতে হবে। ফুড ভ্লগারদের প্রচারের উপর ভরসা করে বহু মানুষ দোকানে যান। তাই প্রচারের সময় খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্রেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। শান্তিনিকেতনের হোটেল ব্যবসায়ী সহদেব দাস বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সকলেরই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাবার তৈরি করা উচিত। পচা বা বাসি খাবার যাতে না দেওয়া হয় দেখা দরকার।



