সংবাদদাতা, বহরমপুর: পালাকীর্তনে মজেছে বড়ঞা ব্লক। নবম দোল উৎসব থেকে শুরু হয়েছে কীর্তন গানের আসর। রোজ বড়ঞা ব্লকের কোথাও না কোথাও হরিবাসরে দিনরাত চলছে কীর্তন গান। সারা বৈশাখ মাসজুড়ে কীর্তন গানের আসর চলবে। প্রতিটি হরিবাসরে হরিনাম সংকীর্তন শুনতে ভক্তদের ঢল উপচে পড়ছে। চব্বিশ প্রহর, ছত্রিশ বা আটচল্লিশ প্রহরের হরিবাসর সভায় ভক্তদের খাওয়ারও আয়োজন করছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি হরিবাসরের শেষ দিন উদ্যোক্তারা হাজার হাজার মানুষের জন্য অন্ন মহোৎসবের আয়োজন করছেন। এদিকে কীর্তনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় খুশি কীর্তন শিল্পীরা। শিল্পীদের দাবি, প্রায় প্রতিটি গ্রামে এইসময় কীর্তন গানের আসর বসায় ভালো বায়না মিলছে। সহশিল্পী বাদ্যকারদের আয় বাড়ায় তাঁদের মুখে হাসি ফিরে এসেছে। বাংলার প্রাচীন কীর্তন গান প্রায় খাদের কিনারায় এসে পৌঁছেছিল। বছর তিনেক থেকে ফের গ্রামেগঞ্জে পালাকীর্তনের জোয়ার আসতে শুরু করেছে। পদাবলি কীর্তন গানের প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। বায়নার চাপ বাড়ায় নামীদামি কীর্তনীয়াদের দু’তিন মাস আগে থেকেই বুকিং করতে হচ্ছে। এক এক আসরে ছ’পালা, আট পালা বা তার বেশি কীর্তন গান পরিবেশিত হচ্ছে। কিন্তু শ্রোতার ঘাটতি নেই। নবম দোল উৎসবে বড়ঞা ব্লকের নিমা গ্রামে অষ্টপ্রহর পালা কীর্তন দিয়ে এবারের হরিবাসরের সূচনা হয়। বীরভূম, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনার নামী শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। কীর্তনশিল্পী অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কীর্তন গানের প্রতি সব বয়সের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বাংলার কৃষ্টি কালচারের পক্ষ্যে এটা খুবই ভালো দিক। হরিবাদর শেষে ৫৬ দল খোল করতাল নিয়ে নগর পরিক্রমা করে। নিমা গ্রামের গোপাল আশ্রম কমিটির সম্পাদক নির্মল ঘোষ বলেন, লীলা কীর্তন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা চেষ্টা করি শ্রোতাদের ভালো শিল্পীদের গান শোনাতে। ২৭ ও ২৮ মার্চ পাঁচথুপি ভাটপাড়ায় হয়ে গেল কীর্তন গান। বাসন্তী পুজো উপলক্ষ্যে মুনিয়াডিহি বারকোণা মাঠে বসছে হরিবাসর। ১-৪ বৈশাখ ধান্যঘড়ায় হবে বেশ কয়েক পালাকীর্তন গান। পারশালিকা যুব সমিতির উদ্যোগে ৪২তম বর্ষের হরিবাসর হবে ১-৫ বৈশাখ। একইদিনে গৌরীনগরে হরিবাসর বসবে। ৪-৬ বৈশাখ বোলপাড়া হনুমান মন্দিরে, ৫-৭ বৈশাখ করালিতলা জটাধারী মন্দিরে, ১২-১৪ বৈশাখ ফতেপুরে কীর্তন বাসরের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এছাড়া নারায়ণপুর, মসড্ডা, হাপিনা, যুগসরা গ্রামেও কীর্তনের আসর বসছে। বৈশাখ মাসের প্রত্যেক দিন বড়ঞা ব্লক কীর্তন গানে মজে থাকবে। বহু জায়গায় হরিবাসর শেষে কবিগানের চল রয়েছে। পারশালিকা যুব সমিতির সভাপতি প্রাক্তন সেনাকর্মী বাবলু ঘোষ বলেন, পারশালিকার হরিনাম সংকীর্তনের দিকে এলাকার হাজার হাজার মানুষ তাকিয়ে থাকেন। ভক্তদের জন্য রাত দিন সমস্ত রকমের খাবারের ব্যবস্থা থাকে।



