নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাই সেনাবাহিনীকে সম্মান জানাতে কেশপুরে মিছিল করলেন ব্লক তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। রবিবার কেশপুরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিলটি শুরু হয়। কেশপুর বাজার ঘুরে ফের বাসস্ট্যান্ডে এসে তা শেষ হয়। এরপর সেখানেই একটি পথসভা হয়। মিছিলে ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা, জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই সহ ব্লকের প্রথম সারির তৃণমূল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, সেনা বাহিনীর দক্ষতায় পুরো দেশ মুগ্ধ। দুঃখের বিষয়, কিছু রাজনৈতিক দল এর মধ্যেও রাজনীতি করছে। কেশপুরের মানুষ সর্বদা সেনাবাহিনীর পাশে থাকবেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষ এই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়। ব্লক তৃণমূলের নেতারা সেনা জওয়ানদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথাও জানান। এদিনের মিছিলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতন।
প্রদ্যুৎবাবু বলেন, সেনাবাহিনী যেভাবে লড়াই চালিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। আমরা সবসময় সেনাবাহিনীর পাশে থাকব। গত বিভিন্ন নির্বাচনে কেশপুরে দল ভালো ফল করেছে। রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে। দলের কর্মীদের একসঙ্গে চলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
বাম জমানায় রাজনৈতিক হানাহানির জন্য কেশপুরের নাম বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। প্রায়দিনই বোমা-গুলিতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। এখন ব্লকের তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী, বিভিন্ন ধর্মের উৎসব ও বিশেষ দিনে নানা কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এছাড়া, সারাবছর ধরে নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হয়। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ব্লক তৃণমূলের উদ্যোগে সারাবছর ধরে রক্তদান, বস্ত্রদান করা হয়। দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতা করা হয়। কেশপুর ব্লকের কোনও বাসিন্দা সমস্যায় পড়লে নেতাকর্মীরা তাড়াতাড়ি তা সমাধানের চেষ্টা করেন। দলের তরফে নিয়মিত অঞ্চল ও বুথ সম্মেলন করায় সাংগঠনিক ভিত মজবুত হয়েছে। সেখানে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা উঠে এলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গড়াই বলেন, দলের নির্দেশে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল কর্তব্য। ব্লকের মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। আমরা সবসময় মানুষের পাশে আছি।-নিজস্ব চিত্র