নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বছর আসে বছর যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলে সেজে ওঠে মেদিনীপুর। কিন্তু মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় আর তৈরি হয় না। একসময় এই জেলা কার্যালয় তৈরির জন্য সাধারণ কর্মী-নেতাদের থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হলেও, কার্যালয় আর তৈরি হয়নি। জানা গিয়েছে, একদিকে যেমন দলীয় কার্যালয় তৈরির জন্য মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগর এলাকায় জমি কেনা হয়েছে, অপরদিকে বেশ কয়েকবার কার্যালয় তৈরির জন্য ভিতপুজোও করেছেন নেতারা। দল ক্ষমতায় আসার পর ১৪ বছর পার করলেও কেন দলীয় কার্যালয় তৈরি হল না? স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনিয়ে বারবার সোচ্চার হয়েছেন, কিন্তু লাভ হয়নি। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশকে প্রতিবারই অমান্য করা হয়েছে।
তৃণমূলের এক নেতা বলছেন, দলীয় কার্যালয় তৈরি হবে বলে একাধিক বার ঘটা করে অনুষ্ঠান হয়েছে। সেই কার্যালয় তৈরির জন্য কোটি কোটি টাকার হিসেব কেউ জানে না। সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন কিছু নেতা। তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও কার্যালয় তৈরি হয়নি। ২০১৩ সাল থেকে জেলা কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় দলের জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বিধায়ক দীনেন রায়। শোনা যায়, তাঁর আমলে ঘটা করে দলীয় কার্যালয় তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। জমিও কেনা হয়। তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বেশ রুষ্ট স্বরে বলেন, এটা পার্টির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সাংবাদিককে বলব কেন? কেউ দেয় না পাঁচটা পয়সা। ভিক্ষা করে পার্টিটা চালাতে হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের পর থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। জঙ্গলমহলের এই জেলায় একের পর এক নির্বাচনে ভোট বেড়েছে ঘাসফুল শিবিরের। এই ১৪ বছরে দলের কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমন কাঠামোগত বদল হয়েছে। কিন্তু সেই কর্মী সমর্থকদের কথা ভাবেনি দলীয় নেতৃত্ব। দলের নেতা-কর্মীরা জানাচ্ছেন, পশ্চিম মেদিনীপুরে তৃণমূলের স্থায়ী ঠিকানা নেই এখনও। দলের জেলা কার্যালয় তৈরির জন্য ২০১৩ সালে কেনা জমি পড়েই রয়েছে। মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগরে ওই জমিতে আগাছা জন্মেছে। জমির পাঁচিলও ভেঙে পড়েছে। জমি আবর্জনায় ভরে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে সুজয় হাজরা জেলা তৃণমূলের সভাপতি। তিনি মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হওয়ার পর নান্নুরচকের কাছে এক কার্যালয় হয়েছে অস্থায়ীভাবে। যেটি সুজয়বাবুর কার্যালয় বলেই পরিচিত। এখন দলের জেলার বৈঠক এখানেই হয়। এদিন জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, কী কারণে জেলা কার্যালয় তৈরি হয়নি, জানি না। বড় জেলা কার্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে। সভাপতি হওয়ার পর একটি কার্যালয় তৈরি করেছি। সেখানেই দলের সব কাজ হয়।
এক তৃণমূল নেতা বলেন, একসময় ট্রাস্ট তৈরি করা হয়েছিল। সেই ট্রাস্টের মাধ্যমে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, ঝাড়গ্রাম জেলা থেকেও চাঁদা তোলা হয়। কম করে ২ কোটি টাকা তোলা হয়। জমির পরিমাণ প্রায় ৪ কাঠা। সেই ট্রাস্টের মেম্বার ছিলেন মৃগেন মাইতি সহ প্রথম সারির নেতারা। সেই ট্রাস্টের খোঁজ কেউ জানে না।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দীনেন রায় জেলা সভাপতির আসনে বসেন। পরে জেলা সভাপতি হন অজিত মাইতি। তিনিও জেলা সভাপতির আসনে দীর্ঘদিন ছিলেন। তাঁর আমলে ভিত পুজো হয় ঘটা করে। মাল্টিস্পেশালিটি পার্টি অফিসের কথা জানানো হয়। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এদিন অজিত মাইতি বলেন, জেলা কার্যালয় তৈরির জন্য সব রকমের পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু পরে সাংগঠনিক পরিবর্তন হওয়ার ফলে তৈরি হয়নি। কিন্তু দল যদি ফের দায়িত্ব দেয়। নিশ্চিতভাবে জেলা কার্যালয় তৈরি করব।