নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ত্রিবেণীতে কুমিরের দেখা মেলায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল চুঁচুড়ায়। প্রশাসনও ঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছিল। সেই আতঙ্কই জাঁকিয়ে বসে রবিবার দুপুরের পর। চুঁচুড়া শহরের বাসিন্দা এক মাঝি এদিন সকালে দাবি করেন, গঙ্গার চড়ায় তিনি কুমির দেখেছেন। তারপর অনেকেই চুঁচুড়া ও চন্দননগরের মধ্যবর্তী এলাকায় কখনও গঙ্গার ধারে, কখনও মাঝগঙ্গায় একাধিকবার কুমিরের দর্শন পেয়েছেন। অনেকেই গঙ্গার বুকে কুমিরের চলাফেরার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দিতে শুরু করেন। ফলে কুমির-আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গঙ্গাপাড়ে।
‘বর্তমান’ ওই ভিডিও’র সত্যতা যাচাই না করলেও পুর প্রশাসনের দাবি, গঙ্গার ঘাটে যে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তা বহাল থাকছে। অর্থাৎ গঙ্গাস্নানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকছেই। যে কুমিরকে সপ্তাহখানেক আগে ত্রিবেণীর গঙ্গায় ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর তলায় দেখা গিয়েছিল, এটি সেই কুমিরই কি না, সেব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য জয়দেব অধিকারী বলেন, নতুন করে কুমির দেখা গিয়েছে কি না, সেটি ভিন্ন বিতর্ক। তবে আমরা কুমিরের জন্য গঙ্গাপাড়ে যে সতর্কতা জারি করেছিলাম, তা বহাল রাখা হয়েছে। আমরা চাই, মানুষ যেন জলে না নামেন। নেহাত নামার প্রয়োজনে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রশাসন নজরদারি চালাচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের জারি করা সতর্কতা মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। সবাইকেই দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয় দিতে হবে। এদিন সকালে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক মাঝি গঙ্গার চড়ায় কুমিরটিকে দেখতে পান। তারপর তিনি নৌকা নিয়ে তড়িঘড়ি পাড়ে ফিরে আসেন। তিনি এতটাই আতঙ্কে রয়েছেন যে, সংবাদমাধ্যমের সামনেও আসতে চাননি। তবে তাঁর ছেলে কানাই বিশ্বাস বলেন, বাবা চোখের সামনে কুমির দেখে ভয়ে আর গঙ্গামুখো হননি। বাবা এও জানিয়েছেন যে, কুমিরটি গঙ্গার চড়ে থাকা একটি কুকুরকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। গোটা ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত।
গত ৭ জুন হুগলির বাঁশবেড়িয়ার ত্রিবেণী এলাকায় কুমিরের আতঙ্ক ছড়ায়। ওইদিন ঈশ্বরগুপ্ত সেতুর নীচে একটি কুমিরকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কেউ সেই দৃশ্য ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর চুঁচুড়ার একাধিক ঘাটে কুমির নিয়ে সতর্কতা জারি করে প্রশাসন।