Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

‘সমালোচনা গণতন্ত্রের আত্মা’, সাক্ষাৎকারে মন্তব্য মোদির

মোদি জমানায় ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় লাগাম পড়েছে। যে কোনও সমালোচনায় খড়্গহস্ত সরকার। এমনই অভিযোগে সোচ্চার বিরোধীরা।

‘সমালোচনা গণতন্ত্রের আত্মা’, সাক্ষাৎকারে মন্তব্য মোদির
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: মোদি জমানায় ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় লাগাম পড়েছে। যে কোনও সমালোচনায় খড়্গহস্ত সরকার। এমনই অভিযোগে সোচ্চার বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, বিবিসির গুজরাত হিংসা সংক্রান্ত তথ্যচিত্রে নিষেধাজ্ঞাই হোক, বিরুদ্ধ-স্বর দমনে এজেন্সিকে কাজে লাগানো, বিরোধীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের মতো ঘটনা অঘোষিত ইমার্জেন্সিরই নামান্তর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খোলাখুলি সাংবাদিক বৈঠক করেন না বা সংসদে কোনও প্রশ্নের উত্তরও দেন না বলেও বিরোধী শিবিরের অভিযোগ। এবার এই ইস্যুতে নিজের মতামত জানালেন মোদি।

Advertisement

তিনি বলেছেন,  সমালোচনা সবসময়ই স্বাগত। কারণ তা গণতন্ত্রের আত্মা। কিন্তু যথাযথ ও তথ্যবহুল সমালোচনার এখন বড়ই অভাব। এখন যা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অভিযোগ। এভাবে সমালোচনা ও অভিযোগের ফারাক তুলে ধরেছেন তিনি।  মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেছেন, তিনি বরাবরই সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে এসেছেন। কারণ, প্রকৃত সমালোচনার মাধ্যমে নিজেকে সংশোধন করা যায়। কিন্তু এখন সত্যিকারের দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সোজাসাপ্টা অভিযোগ করা হয়। কিছু ব্যক্তি নির্দিষ্ট এজেন্ডা এবং ভুল উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ভুল তথ্য ব্যবহার করেন।

দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকার রবিবার সামনে এসেছে। সেখানে মোদি শৈশবের স্মৃতিচারণ সংক্রান্ত জীবনের যাত্রাপথের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছেন। সেইসঙ্গে আরএসএসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০০২ সালের হিংসা, বিভিন্ন বৈদেশিক বিষয়ে নিজের অভিমত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারত বরাবরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চেয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর প্রয়াসের কথাও জানিয়েছেন মোদি।  শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। এব্যাপারে মোদি বলেছেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপে পাকিস্তানের কাছ থেকে শুধু বিরোধিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের যোগসূত্র নিয়েও পাকিস্তানকে একহাত নিয়েছেন তিনি। 
২০০২ সালে গুজরাত হিংসা নিয়ে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদির ভূমিকা নিয়ে বারেবারেই প্রশ্ন উঠেছে। এব্যাপারে মোদি বলেছেন,  এভাবে একটা ভুয়ো ভাষ্য গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই ঘটনার আগে রাজ্যে আড়াইশোর বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়পর্বে সারা বিশ্বেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ কীভাবে বেড়ে গিয়েছিল,সেই প্রেক্ষাপটও তিনি তুলে ধরেছেন। যদিও ২০০২ সালের পর গুজরাতে একটিও গোষ্ঠী হিংসার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন মোদি। মেরুকরণের রাজনীতির অভিযোগ বরাবর উঠেছে বিজেপি ও মোদির বিরুদ্ধে। গুজরাত হিংসার প্রসঙ্গে মোদি বলেছেন, তিনি ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। তাঁর নীতি, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। তিনি বলেছেন, ওই ঘটনার পর তাঁর ভাবমূর্তিতে কালি ছেটানোর চেষ্টা কম হয়নি। কিন্ত শেষপর্যন্ত ন্যায়বিচার মিলেছে। আদালত সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আরএসএসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়ে মোদি বলেছেন, এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তিনি ভাগ্যবান। নিঃস্বার্থ সেবা ও জীবনের মূল্যের পাঠ তিনি সঙ্ঘের কাছ থেকে পেয়েছেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সঙ্ঘের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ