Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৈদ্যুতিক চুল্লি চালানোর খরচও উঠছে না তেহট্টে

এক বছরের বেশি সময় ধরে এই শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি রয়েছে। কিন্তু তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৈদ্যুতিক চুল্লি চালানোর খরচও উঠছে না তেহট্টে
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: এক বছরের বেশি সময় ধরে এই শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি রয়েছে। কিন্তু তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৈদ্যুতিক চুল্লি চলার ফলে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, সেই সংখ্যায় শবদেহ এই শ্মশানে না আসায় পরিকাঠামোর খরচ তুলতে হিমশিম অবস্থা পঞ্চায়েত সমিতির। জলঙ্গি নদীর পাড়ে তেহট্টে এই শ্মশানের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। তেহট্ট-১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ইমরান শেখ বলেন, শ্মশানের পরিকাঠামোর খরচ তুলতে সমস্যা হচ্ছে। যদি তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শুরু হয় তাহলে এই শ্মশান পরিচালনায় যেমন সুবিধা হবে, তেমনি স্থানীয় মানুষেরও হয়রানি কমবে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঙ্গির পাড়ে শ্মশানটিতে একবার বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ করা হলে তা ফের গরম করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। আর সেই সময় কোনও শবদেহ এলে সৎকার করতে সমস্যায় পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তাই বন্ধ করা হয় না এই চুল্লি। এতে বিদ্যুতের বিল উঠতে থাকে। ব্লক অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে,  এই শ্মশানে শবদেহ সৎকারে দু’হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক চুল্লি ঠিকমতো চালনোর খরচ তোলার জন্য রোজ  ৮৫ থেকে ৯০টি শবদেহের সৎকার প্রয়োজন, যা এই শ্মশানে হয় না। এখানে ময়নাতদন্ত না হওয়ায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে সেই দেহ নিয়ে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের মর্গে ছুটতে হয় মানুষকে। আর প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ হলে সেই দেহ সরাসরি নবদ্বীপ শ্মশানেই নিয়ে গিয়ে সৎকার করে অধিকাংশ পরিবার। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ময়নাতদন্ত কেন্দ্র তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে হলে অনেকেই মৃতদেহ সৎকারের জন্য তেহট্ট শ্মশানে নিয়ে আসতেন। তাঁদের বক্তব্য, করিমপুর, মুরুটিয়া, হোগলবাড়িয়া সহ তেহট্ট মহকুমার যে কোনও জায়গায়  কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তাদের তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু সেখানে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা না থাকায় সেখান থেকে ৪৫ কিলোমিটার উজিয়ে শক্তিনগর যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। 
তেহট্ট ১-এর বিডিও সঞ্জীব সেন বলেন, শ্মশানের পরিকাঠামো উন্নয়নে চেষ্টা হচ্ছে। তবে তেহট্টের মতো জায়গায় ময়নাতদন্ত কেন্দ্র হলে এই শ্মশানের কার্যকারিতা আরও বাড়বে। তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালের সুপার বাপ্পাদিত্য ঢালি বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত স্থানে জানানো হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ