নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি ২০২৬-২৬ অর্থবর্ষে দেশের ১৮টি বড়ো রাজ্যের মোট রাজস্ব আদায় ৯ থেকে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিল ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। সার্বিকভাবে সেই অঙ্ক ৪৪ লক্ষ কোটি টাকার সীমা ছাড়াতে পারে। এই ১৮টি রাজ্য দেশের মোট জিডিপির ৯০ শতাংশেরও বেশি দখলে রাখে। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গও আছে। গত অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে রাজ্যগুলির নিজস্ব জিএসটি সংগ্রহ এবং কেন্দ্রের তরফে কর বণ্টন। অন্যান্য রাজস্ব খাতে বৃদ্ধির হার মাঝারি থাকবে বা কম হতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের মোট রাজস্ব প্রাপ্তির অর্ধেকের বেশি আসে নিজস্ব কর আদায় থেকে, যার মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই জিএসটি। মদ ও পেট্রপণ্যের উপর কর অন্য দুটি বড়ো উৎস। কেন্দ্রীয় করের ভাগ থেকে আসে প্রায় এক তৃতীয়াংশ রাজস্ব, অনুদান ও কর নয়, এমন রাজস্ব থেকে আসে প্রায় ৯ শতাংশ। জিএসটি-ই এবার গেমচেঞ্জার, বলছে ক্রিসিল। তাদের বক্তব্য, দেশীয় বাজারে চাহিদা চাঙা থাকা এই বৃদ্ধির সহায়ক হবে। পণ্যের দাম বেশি থাকা, টাকার অবমূল্যায়ন এবং স্থিতিশীল আমদানি জিএসটি আদায়কে চাঙ্গা রাখবে, মনে করছে ক্রিসিল। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম পাঁচমাসে রাজ্যগুলির জিএসটি রাজস্ব বছরে ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যার পিছনে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স, যন্ত্রপাতি, সোনা, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানিতে আইজিএসটি সংগ্রহ প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পণ্যের দাম স্থিতিশীল হলে এবং মুদ্রার অস্থিরতা কমলে এই গতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যান্য নিজস্ব করের মধ্যে মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব ৭-৮ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, পেট্রপণ্য থেকে কর বৃদ্ধি হবে ৪-৫ শতাংশ। স্ট্যাম্প ডিউটির নেতৃত্বে অন্যান্য নিজস্ব কর ৬-৭ শতাংশ বাড়বে, যা কিছুটা কম। আবাসন শিল্পে ভাটা এর অন্যতম কারণ।