বিশাখাপত্তনম: ছিলেন জ্যাভেলিন থ্রোয়ার। কিন্তু প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন ক্রিকেটার হিসেবে। সম্প্রতি মহিলাদের বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মহিলা ক্রিকেটার তাজমিন ব্রিটস। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর শতরানে ভর করেই চলতি বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। বৃহস্পতিবার ভারতের বিরুদ্ধে অবশ্য ওপেন করতে নেমে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। তবুও তাঁকে ঘিরে জোর চর্চা ক্রিকেটমহলে।
সম্প্রতি অঞ্জুম চোপড়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজমিন বলেন, ‘আমার ক্রিকেটে আসা কিছুটা কাকতালীয় বটে। গাড়ি দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে যায় জ্যাভেলিন কেরিয়ার। তখন চরম অবসাদে ডুবে গিয়েছিলাম। হতাশায় নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু একদিন পানশালার এক ঘটনায় জীবনের মোড় ঘুরে যায়। সেখানে এক ক্রিকেট কোচের সঙ্গে আমার বন্ধুদের আলাপ হয়। আমিও তখন হাজির। ওই কোচ একজন মহিলা ক্রিকেটারের খোঁজ চাইছিলেন। বন্ধুরা তাঁকে বলেন, জ্যাভেলিনের পাশাপাশি আমি ক্রিকেটও খেলি। সেই থেকেই সিরিয়াস ক্রিকেট শুরু।’
কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে পরিবারের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন তাজমিন। তিনি বলেছেন, ‘বাবা-মা পাশে ছিলেন সেই সময়টাতে। বিশেষ করে মায়ের কথা বলতে হবে। মানসিকভাবে ঠিক থাকার জন্য মায়ের অবদান অনেকটাই। তবে ক্রিকেটে মন বসানোর ব্যাপারটা সহজে হয়নি।’
ক্রিকেটে ঝড়ের গতিতে উত্থান ব্রিটসের। সম্প্রতি এক ক্যালেন্ডার বর্ষে পাঁচটি শতরান করেছেন তিনি। চাপের মুখে প্রোটিয়াদের বড় ভরসা তিনি। তবে তা হয়ে উঠতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাঁকে। টি-২০ ক্রিকেটে সাফল্য পেলেও ওয়ান ডে’তে বেশ বেগ পেতে হয়। এই ফরম্যাটে প্রথম শতরান পান ২০টি ইনিংসের পর। আর এখন তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা ক্রিকেট দলের দ্রুততম শতরানকারী ব্যাটার। ৩৪ বছর বয়সি এখনও পর্যন্ত ৬৮ টি-২০, ৪২ ওডিআই এবং একটি টেস্ট খেলেছেন।