


নয়াদিল্লি: এজবাস্টনে ১০ উইকেট। ওভালে গুরুত্বপূর্ণ হাফ-সেঞ্চুরি। বিলেতে ভারতের দু’টি টেস্ট জয়ের ক্ষেত্রেই বড় অবদান রয়েছে আকাশদীপের। রাতারাতি প্রচারের আলোয় তিনি। একসময় দুর্গাপুরে ক্যাম্বিস বল ক্রিকেটে খেপ খেলে বেড়ানো আকাশদীপের জীবন পাল্টে গিয়েছে বিলকুল। সদ্য বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ি কিনেছেন তিনি। ২৯ বছর বয়সি যদিও ফোকাস হারাচ্ছেন না। তিনি বলেছেন, ‘সবসময় বর্তমানে থাকার চেষ্টা করি। উন্নতির জন্য পরিশ্রম করি প্রতিদিন। বল হাতে আরও ধারালো হয়ে ওঠাই মূল লক্ষ্য। বাড়ি-গাড়ি যাই হোক না কেন, ক্রিকেটই আমার জীবনের সবকিছু। তাতেই ফোকাস রাখি। হ্যাঁ, বিলাসবহুল গাড়ি কিনতে পারা অবশ্যই আনন্দের। এটা অস্বীকারের কোনও জায়গা নেই। আমার পরিবারও এতে খুশি। ওদের মুখে হাসি দেখে আমিও তৃপ্ত। তবে বাস্তব হল, আমি কখনওই এসবের আশা-আকাঙ্ক্ষা মাথায় রেখে খেলি না। মাঠে নামলে একমাত্র তাগিদ থাকে সেরাটা মেলে ধরা।’
সদ্যসমাপ্ত ইংল্যন্ড সফরের সুখস্মৃতিতে এখনও বিভোর বাংলার হয়ে খেলা পেস বোলারটি। ওভাল টেস্টে নৈশপ্রহরী হিসেবে নেমে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তারপর কোচ গৌতম গম্ভীর বলেছিলেন, ‘তুমি কী করতে পারো সেই সম্পর্কে নিজেরই কোনও ধারণা নেই!’ সেই মন্তব্যই হয়ে উঠেছে মোটিভেশন। কোচের বক্তব্য কানে বাজছে আকাশের, ‘এই রকম সঙ্কল্পবদ্ধ হয়ে সবসময় খেলবে— বলেছিলেন গৌতম ভাই। উনি কোচ হিসেবে খুব আবেগপ্রবণ। সবসময় উদ্দীপ্ত করেন। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে আমার দক্ষতা উপর দারুণ ভরসা ওঁর।’
রোহিত শর্মার নেতৃত্বে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল আকাশদীপের। ইংল্যান্ডে শুভমান গিলের অধিনায়কত্ব কেমন লাগল? ডানহাতি পেসারের উত্তর, ‘দারুণ ক্যাপ্টেন। তাছাড়া ও অধিনায়ক হিসেবে একেবারে আনকোরা নয়। কয়েক বছর ধরে আইপিএলের মতো মঞ্চে নেতৃত্ব দিচ্ছে গিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে এসেছে। কখনওই মনে হয়নি যে, ওর নেতৃত্বে টেস্টে এই প্রথমবার খেলছি। সবসময় পাশে থেকেছে। একজন ক্যাপ্টেন যখন সব পরিস্থিতিতে সহায়তা করে তখন কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। ম্যাচেও সেটাই তফাত গড়ে দেয়। গিল খুব ঠান্ডা মাথার ক্যাপ্টেন। বিভিন্নরকম আইডিয়া থাকে মাথায়। শান্ত স্বভাবের হওয়ায় মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও সুবিধা হয়।’
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে জোরে বোলারদের জন্য তেমন সুবিধা ছিল না বলেই মনে হয়েছে আকাশের। তাঁর কথায়, ‘ওখানে সাধারণত যেমন উইকেট পাওয়া যায়, তা এবার ছিল না। বল সেভাবে সুইং বা সিম হয়নি। ভারতে আমরা যে লেংথে বল রাখি, ওখানেও সেটা করেছি। আমার কাছে প্র্যাকটিস সেশনগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নেটে যশস্বী জয়সওয়ালকে বল করলেও মনের মধ্যে সবসময় বেন ডাকেট বা জো রুটকে ভেবে পরিকল্পনা করেছি।’