নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার ভোর পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে ন’টা পর্যন্ত বন্ধ থাকল বিদ্যাসাগর সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। তবে নিয়ন্ত্রণবিধি উঠে যানবাহন চলাচল শুরু হয় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে। এদিন যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় এই দুই জায়গার ছবিটা কার্যত উস্কে দিল লকডাউনের স্মৃতি। সেতুর টোল গেটে রীতিমত ক্রিকেট খেলার মুডে দেখা গেল সেখানকার কর্মীদের। রবিবার হওয়ার কারণে বিকল্প রাস্তাগুলিতে বিশেষ যানজট হয়নি। তবে সাঁতরাগাছি স্টেশনে নেমে বাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। এই সুযোগে আকাশছোঁয়া দর হেঁকেছেন অ্যাপ ক্যাব চালকরা।
বিদ্যাসাগর সেতুতে কেবল মেরামতির কাজ চলছে। পাশাপাশি সাঁতরাগাছির সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাসের কাছে ফ্লাইওভারের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করা চলছে। এই দুই কারণে রবিবার দিনভর বন্ধ রাখা হয়েছিল বিদ্যাসাগর সেতু ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। নিত্যদিনের চরম ব্যস্ততা, তীব্র যানজটের চেনা ছবি এদিন ছিল উধাও। ভোরবেলাই নিবড়া মোড় থেকে কলকাতাগামী সমস্ত যানবাহন দু’টি বিকল্প রাস্তায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। হাওড়া-আমতা রোড দিয়ে হাওড়া ব্রিজ হয়ে কলকাতা যাওয়ার জন্য একটি রুট নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। দ্বিতীয় রুটে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে নিবেদিতা সেতু হয়ে কলকাতার দিকে পাঠানো হয় গাড়িগুলিকে। হাওড়া সিটি পুলিস (ট্রাফিক) ও হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্সের তরফে জানানো হয়, রবিবার হওয়ায় বিকল্প রাস্তাগুলিতে যানজটের তেমন সমস্যা হয়নি। রাত রাত ১০টা ১৫ মিনিটের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সকালে কিছুক্ষণ আন্দুল রোডে যানজট হয় বলে খবর।
জনশূন্য বিদ্যাসাগর সেতুর টোল গেটে এদিন সকালে ব্যাট বল হাতে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠেন টোল কর্মীরা। তাঁরা বলেন, ‘লকডাউনের সময় দিনের পর দিন এমন ছবি দেখতে হয়েছে। দীর্ঘদিন পর মেরামতির কাজের জন্য ব্রিজ বন্ধ করা হয়েছে। একটা দিন আমরাও একটু আনন্দ করলাম।’ সাঁতরাগাছি স্টেশনে যাতায়াতের জন্য কোনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বিকল্প রাস্তা খোলা রেখেছিল পুলিস। তবে এদিন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন দূরপাল্লার ট্রেন ধরে স্টেশনে আসা যাত্রীরা। বাস না পেয়ে দিনভর অ্যাপ ক্যাব ও বাইকের উপর ভরসা করতে হয় তাঁদের। সেই সুযোগে আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকতে দেখা যায় ক্যাব চালকদের। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আসা তন্ময় মাজি নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমরা দু’জন বালিগঞ্জ যাব। দু’টি অ্যাপ বাইক ৭০০ টাকা করে ভাড়া চাইছে। এ ভাড়া সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে।’ এদিন ক্যাব চালকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়তেও দেখা যায় অনেক যাত্রীকে।