Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্মশান ও কবরখানার রেকর্ডরুম সিল, সংশোধন করা যাচ্ছে না শংসাপত্র, নাগরিক ভোগান্তি চরমে

প্রায় দু’মাস হতে চলল, কলকাতার শ্মশান, কবরখানাগুলির রেজিস্টারের রেকর্ডরুম সিল করে রেখেছে পুলিশ।

শ্মশান ও কবরখানার রেকর্ডরুম সিল, সংশোধন করা যাচ্ছে না শংসাপত্র, নাগরিক ভোগান্তি চরমে
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় দু’মাস হতে চলল, কলকাতার শ্মশান, কবরখানাগুলির রেজিস্টারের রেকর্ডরুম সিল করে রেখেছে পুলিশ। ফলে সংশোধন করা যাচ্ছে না মৃত্যুর শংসাপত্র। বেড়েই চলেছে নাগরিকদের ভোগান্তি। ভুক্তভোগী জনতার প্রশ্নের মুখে জেরবার হচ্ছেন পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তারা। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে জন্ম-মৃত্যুর নথিভুক্তি সংক্রান্ত পোর্টাল চালু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সমস্ত নথিপত্র সংশ্লিষ্ট শ্মশান বা করবখানার রেকর্ডরুমেই রাখা থাকে। কারণ, ওই বছর মে মাস থেকে অনলাইন ব্যবস্থা শুরু হওয়ায় প্রত্যেকটি শ্মশান-কবরখানার রেজিস্ট্রারের পৃথক পৃথক আইডি তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য, কোনো নাগরিককে যেন মৃত্যু শংসাপত্র সংশোধনের জন্য হেড অফিস পর্যন্ত ছুটতে না হয়। শেষকৃত্যের জায়গাতেই যাতে সংশোধনের সুযোগ মেলে। কিন্তু গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে পুলিশ প্রায় সর্বত্র শ্মশান ও গোরস্থানে হানা দেয়। নিমতলা, কেওড়াতলাসহ বিভিন্ন শ্মশান এবং বিভিন্ন কবরখানায় মৃত্যু শংসাপত্রের যে রেকর্ডরুম রয়েছে, সেই ঘর তালাবন্ধ করে সিল করে দেয় পুলিশ। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘সেই ২০২২ সালের মে মাস থেকে মৃত্যু সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। চলতি বছরের ২৪ জুলাই সেই ঘর পুলিশ সিল করে দেয়। ফলে ২০২২ থেকে এই চার বছরে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের লোকেরা এখন চাইলেও ডেথ সার্টিফিকেট সংশোধন করাতে পারছেন না। রোজ অন্তত তিন-চারজন নাগরিক শ্মশানের অফিসে এসে খোঁজ নিচ্ছেন। বাগমারি কিংবা অন্যান্য কবরখানার ছবিটাও আলাদা নয়।’ পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে দু’টি বড়ো শেষকৃত্যস্থল কেওড়াতলা এবং নিমতলা মহাশ্মশান।  মাসে গড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার মৃত্যু নথিভুক্ত হয় এই দুই জয়াগয়া। অর্থাৎ গত চার বছরে ১ এক লক্ষ ৯০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ১৫ হাজার ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে এই দু’টি শ্মশান থেকে। স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, শুধু কেওড়াতলা শ্মশানেই হাজার খানেক রেজিস্টার খাতা তালাবন্দি। নিমতলা শ্মশানে সংখ্যাটা আরও বেশি। এই অবস্থায় রোজ বহু মানুষ আসছেন ডেথ সার্টিফিকেট সংশোধন করানোর জন্য। কারও নামের বানান ভুল। কেউ ঠিকানা সংক্রান্ত ভুল সংশোধন করতে আসছেন। কিন্তু প্রায় দু’মাস হতে চলল, সেই সুবিধা মিলছে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ