Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

আগামীতে রেপো রেট না কমার পূর্বাভাস ক্রেডিট রেটিং সংস্থার

আর্থিক নীতি নির্ধারণ কমিটির শেষ বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)।

আগামীতে রেপো রেট না কমার পূর্বাভাস ক্রেডিট রেটিং সংস্থার
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর্থিক নীতি নির্ধারণ কমিটির শেষ বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষবার ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছিল তারা। এরপর ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলের বৈঠকে তা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কেয়ারএজের মত, আগামী কয়েকটি বৈঠকেও রেপো রেটে বড়ো কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। যদি দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার বড়ো রকমের ধাক্কা খায়, তাহলে রেপো কমতে পারে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শেষের দিকে।

Advertisement

যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি মার খাবে বলে মনে করছে আরবিআই। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছিল, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিনমাসে আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ হবে। এবার সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৬.৮ শতাংশ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হার যেখানে ৭ শতাংশ হবে বলে মনে করা হয়েছিল, সেই পূর্বাভাসও কমিয়ে ৬.৭ শতাংশ করা হয়েছে। বছর শেষে তা দাঁড়াতে পারে ৬.৯ শতাংশে। আগামী অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৭-২৮ সালে আর্থিক বৃদ্ধির হারও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের বক্তব্য, জ্বালানির দর যদি ব্যারেল পিছু ৮৫ ডলারের আশপাশে থাকে, তাহলে দেশের বৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এবছর বাজেটের আগে যে আর্থিক সমীক্ষা প্রকাশ করেছে অর্থমন্ত্রক, সেখানে বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল ৭ শতাংশ হারে। বাস্তবে যদি তার চেয়ে কম হারে আর্থিক বৃদ্ধি হয়, রেপো রেটের উপর তার প্রভাব পড়তে বাধ্য, মনে করছে কেয়ারএজ। তাদের বক্তব্য, সত্যিই যদি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ দিকে যায়, তাহলে রেপো রেট কমাতে পারে আরবিআই। অর্থবর্ষের শেষলগ্নেই তা হওয়ার সম্ভাবনা বলে মনে করছে তারা। এখনই রেপো রেটের উপর এর প্রভাব কেন পড়বে না? কেয়ারএজ মনে করছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত হলেও পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ এখনো। সার্বিক অবস্থা যে খুব একটা স্বাভাবিক হবে না, তেমনই ইঙ্গিত। এক্ষেত্রে জ্বালানির দাম চড়া থাকবে এবং তার প্রভাব মূল্যবৃদ্ধি বাড়াতে ইন্ধন জোগাবে। সেক্ষেত্রে রেপো রেট স্থিতিশীল রাখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, আরবিআইয়ের ঘোষিত রেপো রেটের উপর নির্ভর করে ব্যাংকের আমানত ও ঋণের উপর সুদের হার।

সম্পর্কিত সংবাদ