নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কংসাবতী নদী তীরবর্তী গোলগ্রাম সংলগ্ন মুকুন্দপুর ও বিষ্ণুপুর এলাকায় বাঁধে ফাটল ধরায় চাঞ্চল্য ছড়াল ডেবরা ব্লকের গোলগ্রাম পঞ্চায়েতের বেশকিছু এলাকায়। খবর পাওয়া মাত্রই বুধবার ঘটনাস্থলে যান ডেবরা ব্লকের বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী, পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি প্রদীপ কর, গোলগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সহ জন প্রতিনিধিরা। স্থানীয়দের দাবি, ফাটল সংস্কার করা না হলে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার থেকেই বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
ডেবরা ব্লকের বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী বলেন, বাঁধে দু’টি বড় ফাটল লক্ষ্য করা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সেচদপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি প্রদীপ কর বলেন, মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন সর্বদা আছে। খবর পাওয়া মাত্রই বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। ব্লক প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছর ঠিক পুজোর আগে ডেবরা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। চোখের পলকে বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। ডেবরা ব্লকের মলিহাঁটি গ্রাম পঞ্চায়েত, গোলগ্রাম পঞ্চায়েত সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বনমালীপুর এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেশি ছিল। সেই সময় সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন স্কুল, আইসিডিএস সেন্টারে রাখা হয়। নৌকার ও স্পিড বোটের মাধ্যমে খাবার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে মাসখানেক সময় লাগে। একই সঙ্গে সেই সময়ে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন ও গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনও চাইছে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়। তাই বাঁধে ফাটলের কথা শোনা মাত্রই ছুটে যান আধিকারিকরা। গোলগ্রাম এলাকার বাসিন্দা চঞ্চল দাস বলেন, গত বছর বন্যা পরিস্থিতিতে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এবছর প্রশাসন আগে থেকেই তৎপর হওয়ায় কোনও সমস্যা হয়নি। তবে বৃষ্টি বাড়লেই ভয় লাগছে।