Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উদয়নারায়ণপুরে কাঁকড়া-হুগলিতে মাছের মেলা, উৎসাহী মানুষের ঢল

উলুবেড়িয়ার মেলায় বিক্রি হচ্ছে রয়‌্যাল বেঙ্গল কাঁকড়া। এক-একটি কাঁকড়ার ওজন ১ কেজিরও বেশি। দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।

উদয়নারায়ণপুরে কাঁকড়া-হুগলিতে মাছের মেলা, উৎসাহী মানুষের ঢল
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়ার মেলায় বিক্রি হচ্ছে রয়‌্যাল বেঙ্গল কাঁকড়া। এক-একটি কাঁকড়ার ওজন ১ কেজিরও বেশি। দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। উদয়নারায়ণপুরের সিংটি গ্রামে হচ্ছে এই কাঁকড়া মেলা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেলায় মানুষের ঢল। আবার মাছের মেলা ঘিরে জমজমাট হুগলির ব্যান্ডেলের কৃষ্ণপুর। ৫১৯ বছর ধরে এই মেলা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। চলতি বছর একটি ৫০ কেজির শঙ্কর মাছ এবং একটি রাশিয়ান রুই মাছ মেলায় আনা হয়েছিল। তা দেখতে ভিড় জমিয়েছিল জনতা।

Advertisement


কাঁকড়া মেলায় বিক্রি ভালো হওয়ায় দিনের শেষে হাসি বিক্রেতাদের মুখে। কাঁকড়া ছাড়াও রসনা তৃপ্তির জন্য ছিল গরম আলুর দম। সিংটি গ্রামেরভাই খাঁ পীরের এই মেলা প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো। অন্যতম আকর্ষণ আলুর দম ও কাঁকড়া। লোকমুখে এটি কাঁকড়ার মেলা নামে পরিচিত। প্রতিবছর মাঘ মাসের প্রথম দিন গ্রামে বসে মেলা। সকাল থেকেই ক্যানিং, সুন্দরবন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁকড়া নিয়ে আসেন। বিক্রি হয় নানারকম বেতের চেয়ার, টেবিল,বাঁশের চুবড়ি, ঝোড়া, কাঠের পুতুল ইত্যাদি জিনিসপত্র। একদিনের মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। ক্যানিং থেকে কাঁকড়া বিক্রি করতে আসা অনিল জানা বলেন,‘বংশপরম্পরায় এখানে কাঁকড়া বিক্রি করছি। ৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা কেজি ওজনের কাঁকড়া ছিল। বিক্রি ভালো হয়েছে।’ সুন্দরবন থেকে আসা সফিকুল আলম জানান, এক-একটি কাঁকড়ার ওজন ছিল ১ কেজিরও বেশি। 


আবার হুগলির ব্যান্ডেলের কৃষ্ণপুরের মেলারও ঐতিহ্য কম নয়। জনশ্রুতি, একসময় এই গ্রামের জমিদার ছিলেন গোবর্ধন মজুমদার। তাঁর নাবালক ছেলে শ্রীচৈতন্যের দর্শনলাভের জন্য বাড়ি ছেড়ে সন্ন্যাস নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। পানিহাটিতে গিয়ে তিনি দেখা পান মহাপ্রভুর। সেখানে দণ্ড উৎসব পালন করা হয়। তিনি যেহেতু কম বয়সে বাবা-মাকে ছেড়ে সংসার ত্যাগ করে চলে এসেছিলেন, তাই তাকে দণ্ডস্বরূপ ফেরত পাঠানো হয়েছিল। জানানো হয়েছিল যে, এই বয়সে তাঁর সন্ন্যাসী হওয়া হবে না। পরে তিনি মহাপ্রভুর নির্দেশে রঘুনাথ দাস গোস্বামী নাম নিয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামে ফিরে আসেন। তাঁর ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে গ্রামে ভোজের আসর বসেছিল। জমিদার বাড়ির তরফে সকলের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। বলে দেওয়া হয়েছিল, যে যার মতো পুকুর থেকে মাছ তুলে সেখানে রান্না করে খাবে। সেই ধারণা থেকেই বছরের পর বছর এই মাছের মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ