নয়াদিল্লি: ‘অমিত শাহ, দেখে নাও। আমরা যন্তরমন্তর পৌঁছে গিয়েছি।’ শনিবার দিল্লিতে চমক দিলেন সিপিএমের শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং বৃন্দা কারাত, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল এবং পি রাজীবের মতো নেতারা এদিন দিল্লি পুলিশের নজরদারি এড়িয়েই যন্তরমন্তরের কাছে পৌঁছে যান। অন্য আন্দোলনকারীদের অনেককেই তখন পুলিশ আটক করেছে। যন্তরমন্তরের কাছে পৌঁছে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন সিপিএম নেতারা। শাহের উদ্দেশেও বার্তা দেন তাঁরা। কিছু পরেই সকলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। বাংলা থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তীরাও এদিন মিছিলে অংশ নেন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ান মীনাক্ষী। পরে তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে, বিজয়নকে আটক করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘দিল্লি পুলিশ যেভাবে কেরলের বিরোধী দলনেতা বিজয়নকে আটক করেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তাঁর মুক্তির জন্য কেরলের মুখ্যসচিব এবং রেসিডেন্ট কমিশনার দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন।’
কিন্তু পুরো রাজধানী শহরজুড়ে যখন কার্যত মাছি গলার সুযোগ রাখেনি দিল্লি পুলিশ। তা সত্ত্বেও নজর এড়িয়ে কী করে বিজয়ন, বৃন্দারা যন্তর মন্তরের কাছে পৌঁছে গেলেন? সিপিএম সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক উপলক্ষ্যে দলের শীর্ষ নেতারা শুক্রবার রাতেই দিল্লির কেরল হাউজে পৌঁছেছিলেন। সেখান থেকে যন্তরমন্তরের দূরত্ব মেরেকেটে ৩০০ মিটার। ফলে সহজেই সিপিএম নেতৃত্ব সেখানে পৌঁছে যেতে সক্ষম হন। কয়েকজনকে তখনই আটক করা হলেও বিজয়ন, ব্রিটাস ও বালাগোপাল হেঁটে অশোকা রোড যান। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে বিজয়ন বলেন, ‘আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ জোরদার হচ্ছে। সরকারকে নতি স্বীকার করতেই হবে।’ তাঁরা ফের যন্তরমন্তরে ফিরতে চাইলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়, পরে আটক করা হয়। বৃন্দা কারাত বলেন, ‘মোদির স্বৈরতন্ত্র ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। আমরা এখানে ভোটাধিকার রক্ষার জন্য দাঁড়িয়েছি।’ সিপিএমের অন্য একটি দল হরকিষেণ সিং সুরজিত্ ভবন থেকে মিছিল করে বেরিয়েছিলেন। তাঁদের মিন্টো রোডের কাছে আটক করা হয়।



