তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের আগে সংগঠনকে মজবুত করতে বসে যাওয়া কর্মীদের ময়দানে নামাতে দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছে সিপিএম নেতৃত্ব। একাধিক এলাকায় বসে যাওয়া কর্মীদের উৎসাহিত করে তাঁদের ফের দলের কাজে লাগাতে ঝাঁপিয়েছে দার্জিলিং জেলা সিপিএম নেতৃত্ব। ছোট ছোট সভা মিছিল করে বাড়তি উদ্যম নিয়ে কর্মী-সমর্থকেদের চাঙা করাই বর্তমানে লক্ষ্য জেলা নেতৃত্বের। তাদের দাবি, যে কোনো উপায়ে সমস্ত কর্মীকে একত্রিত করে লড়াইয়ের ময়দানে নিয়ে আসাটাই বর্তমানে নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিধানসভার প্রার্থী নির্বাচনের আগে সব নেতাকে একত্রিত করে জয়ের লক্ষ্যে লড়াই করানোর মানসিকতা তৈরি করাই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন জেলা নেতারা। তাঁদের দাবি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসে যাওয়া কর্মীদের ফের লড়াইয়ে ফেরানোর লক্ষ্যে তাঁরা ইতিমধ্যে অনেকটাই সফল হয়েছেন। সাধারণ মানুষও তাঁদের ভালো সাড়া দিচ্ছে।
দার্জিলিং জেলা সিপিএমের সম্পাদক সমন পাঠক বলেন,আমরা প্রত্যেক কর্মীকে ফের লড়াইয়ের ময়দানে নিয়ে আসতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। তাঁরাও বাড়তি উৎসাহ নিয়ে নানা কর্মসূচিতে আসছেন। সংগঠনকে ফের মজবুত করেই আমরা নির্বাচনের ময়দানে নামব।সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে,১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় রাজ্য স্তরের নেতাদের বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বিভিন্ন জেলা নেতৃত্বের দেওয়া তালিকা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা হবে। এমনকী বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আসনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় এখনই বারবার সামনে উঠে আসছে। বৈঠকে দার্জিলিং জেলার একাধিক আসন নিয়েও আলোচনা করা হবে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে অশোক ভট্টাচার্যকে লড়াইয়ের মুখ করলেও এবার তাঁকে কোনো কমিটিতেও রাখা হয়নি। এমতাবস্থায় শিলিগুড়ি আসনে কাকে মুখ করে লড়াইয়ে নামা হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। নবীন না প্রবীণ নেতাদের মুখ করা হবে,তা নিয়ে বর্তমানে দলের অন্দরে জল্পনা চলছে। যদিও জেলা নেতাদের দাবি, প্রার্থী নির্বাচন করার বিষয়টি পরে আগে সংগঠনকে গোছানোই লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে সমন পাঠক বলেন, আমরা নিজেদের সংগঠনকে পুরো গুছিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছি। আপাতত সেই কাজই চলছে। প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি রাজ্যস্তরে আলোচনার বিষয়।