সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: কুশমণ্ডি জেলা পরিষদের মার্কেটের স্টলে চলছে সিপিএম ও কংগ্রেস কার্যালয়। দীর্ঘদিন জেলা পরিষদের স্টল ব্যবহার করেও বকেয়া রাখা হয়েছে কয়েক হাজার টাকা ভাড়া।
সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: কুশমণ্ডি জেলা পরিষদের মার্কেটের স্টলে চলছে সিপিএম ও কংগ্রেস কার্যালয়। দীর্ঘদিন জেলা পরিষদের স্টল ব্যবহার করেও বকেয়া রাখা হয়েছে কয়েক হাজার টাকা ভাড়া।
বাম আমলে তৈরি হওয়া কুশমণ্ডি জেলা পরিষদে বেশিরভাগ স্টলে আধিপত্য ছিল সিপিএম ও কংগ্রেসের। মার্কেটের এক নম্বর স্টলটি বরাদ্দ হয় কংগ্রেস কার্যালয় হিসেবে ও ১৪ নম্বর স্টলটি শ্যামল ঘোষের নামে হলেও সেখানে সিপিএম কার্যালয় তৈরি হয়ে যায় রাতারাতি। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮০ টাকা মাসিক ভাড়া হিসেবে সিপিএম কার্যালয়ের বকেয়া প্রায় ২১ হাজার টাকা। এছাড়া ১০০ টাকা মাসিক ভাড়া হিসেবে কংগ্রেসের কাছে প্রাপ্য প্রায় ২৩ হাজার টাকা।
জেলা পরিষদ ভাড়া আদায়ের জন্য একাধিকবার নোটিস জারি করলেও দেয়নি দুই রাজনৈতিক দল। রাজ্যে পালাবদল হলেও কুশমণ্ডি জেলা পরিষদের মার্কেট থেকে দুই রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরানো যায়নি। বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য জেলা পরিষদ মার্কেট তৈরি করেছিল। যেখানে বেকারদের স্টল দেওয়ার কথা, কীভাবে বছরের পর বছর রাজনৈতিক দলের কার্যালয় চলছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। চর্চা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। জেলা পরিষদের সভাধিপতি অম্বরীষ সরকার বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি মার্কেটের স্টল বাম আমলে কীভাবে নিয়েছিল, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। বকেয়া আদায় নিয়ে আমরা কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি। সবটা খতিয়ে দেখা হবে।
সিপিএম ও কংগ্রেস বারবার বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কথা বললেও তাদের সুবিধার্ধে তৈরি করা স্টলে কার্যালয় করার কথা কোন নীতি বলে, তা নিয়ে প্রশ্ন করছেন অনেকে। ক্ষোভ রয়েছে কুশমণ্ডির নতুন প্রজন্মের মধ্যেও।
কুশমণ্ডি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আইনুল বারেকের কথায়, আমরা জেলা পরিষদের যতটুকু জায়গা নিয়ে রয়েছি, সেখানে বেকারদের কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির আমল থেকেই ভাড়া বকেয়া রয়েছে। আমরা জেলা পরিষদকে ধীরে ধীরে শোধ করে দেব।
এদিকে সিপিএম জেলা কমিটির সম্পাদক নন্দলাল হাজরার মন্তব্য, কুশমণ্ডির দলীয় কার্যালয়ের জন্য জেলা পরিষদের কাছে ভাড়া বকেয়া রয়েছে, বিষয়টি আমার জানা নেই।
জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর কথায়, এরা ইন্ডিয়া জোটের অংশ। একে অপরের পরিপূরক। এরা মুখে বলে বেকারদের কর্মসংস্থান করতে হবে। কিন্তু বেকারদের স্টল দখল করে কার্যালয় করে। প্রশাসন শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিক। - নিজস্ব চিত্র।