Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিপিএম প্রার্থীর সম্পত্তি প্রায় শূন্য, কিউআর কোডে চাঁদা তুলে প্রচার

সম্পত্তির ভাঁড়ার কার্যত শূন্য—এই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে কালীগঞ্জ বিধানসভায় নির্বাচনি ময়দানে নেমেছেন সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন।

সিপিএম প্রার্থীর সম্পত্তি প্রায় শূন্য, কিউআর কোডে চাঁদা তুলে প্রচার
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্বপ্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সম্পত্তির ভাঁড়ার কার্যত শূন্য—এই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে কালীগঞ্জ বিধানসভায় নির্বাচনি ময়দানে নেমেছেন সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। হলফনামায় প্রকাশিত আর্থিক তথ্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সেইসঙ্গে, নির্বাচনি খরচ জোগাড় করতে কৌটোর পরিবর্তে বামেদের ‘কিউআর কোড’ উদ্যোগ যোগ করেছে নতুন মাত্রা। 

Advertisement

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, সাবিনা ইয়াসমিনের নামে কোনো উল্লেখযোগ্য স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নেই। তাঁর হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। ব্যাঙ্কে সঞ্চয় ২৫ হাজার ৮২২ টাকা। স্বামীর আর্থিক অবস্থাও প্রায় একই—হাতে রয়েছে ২ হাজার টাকা এবং ব্যাঙ্কে জমা মাত্র ৬২২ টাকা। প্রার্থীর নিজের নামে রয়েছে প্রায় ১০ গ্রাম সোনার গয়না। যদিও স্বামীর নামে কিছু জমির উল্লেখ রয়েছে, তবুও সামগ্রিকভাবে আর্থিক দিক থেকে অত্যন্ত সীমিত সামর্থ্য নিয়েই ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি।
কৌটো নেড়ে নির্বাচনি খরচের তহবিল জোগাড় করে বামেদের ঐতিহ্য। যদিও বাম নেতাদের কথায়, মাঝপথে কংগ্রেসের জোটে যাওয়ার কারণে সেই প্রথায় লাগাম পড়েছিল।এই পরিস্থিতিতে প্রচারের খরচ সামলাতে ফের পুরনো সে পথ নতুন কায়দায় বেছে নিয়েছে সিপিএম। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়ে কিউআর কোডের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করা হচ্ছে। যে কেউ মোবাইল ফোনে স্ক্যান করলেই সরাসরি অর্থ সাহায্য করতে পারছেন। বাম শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অনুদানেই গড়ে উঠছে এই নির্বাচনী তহবিল—যা তাদের ‘জনভিত্তিক রাজনীতি’র প্রতিফলন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বড় বাজেটের নির্বাচনি প্রচারের ভিড়ে এই ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন আর্থিক সীমাবদ্ধতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে, তেমনই অন্যদিকে ‘স্বচ্ছ ও জননির্ভর তহবিল সংগ্রহ’-এর বার্তা দিতেও সচেষ্ট বামেরা।
উল্লেখ্য, প্রায় আট মাস আগে কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের জয়ের আবহে সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় বড় চাঁদঘর এলাকার ছোট্ট তামান্না খাতুনের মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসে। সেই তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকেই এবার প্রার্থী করেছে বামেরা, যা রাজনৈতিক লড়াইকে আবেগের মাত্রা দিয়েছে।
কালীগঞ্জের সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, আমাদের প্রার্থীর নিজের নামে প্রায় কোনো সম্পত্তি নেই। সাধারণ মানুষের সাহায্য নিয়েই আমরা এই লড়াই চালাচ্ছি। কিউআর কোড চালু করার পর অনেকেই এগিয়ে আসছেন। এটা শুধু নির্বাচন নয়, এক মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াই।
সব মিলিয়ে, আর্থিকভাবে প্রায় শূন্য ভাঁড়ার নিয়ে লড়াই করা এক প্রার্থী এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ—এই দুইয়ের সমন্বয়ে কালীগঞ্জের নির্বাচনি সমীকরণে ভিন্ন বার্তা তুলে ধরতে চাইছে সিপিএম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ