নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাস্তা নিয়ে বিবাদের জেরে তৃণমূল ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল। সোমবার মহম্মদবাজার ব্লকের সেকেড্ডা পঞ্চায়েতের দীঘলগ্রামে এঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় ১৫জন কর্মী জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন তৃণমূলকর্মী গুরুতর জখম। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মহম্মদবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তে নেমে পুলিস এদিন সিরাজ শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে জেলায় রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, দীঘলগ্রামের ইদগাহ পাড়ায় একটি রাস্তা নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, ওই পথ ধরে এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শাহিমা বিবি আলোচনার সাপেক্ষে এর মীমাংসা করে দেন। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানের হস্তক্ষেপে মীমাংসা হলেও সিপিএম কর্মীরা সোমবার সন্ধ্যায় আচমকাই শাসকদলের কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এই অতর্কিত হামলায় তাদের প্রায় ১০জন কর্মী জখম হয়েছেন। অভিযোগ, পাল্টা হামলায় সিপিএমের পাঁচ কর্মীও জখম হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। একজন প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
জখম তৃণমূল কর্মীদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনজন গুরুতর জখম হওয়ায় তাঁদের সিউড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে একজনকে বর্ধমান ও দু’জনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, রাস্তা নিয়েই কোনও গণ্ডগোল হয়েছিল। এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ নেই। তবে ঘটনাটি অনভিপ্রেত। এই ছোট ঘটনাকে পুলিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় আমরা উদ্বিগ্ন। এতে পুরো জেলার শান্তিশৃঙ্খলা নিয়েও চিন্তিত হয়ে উঠেছি।জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, রাস্তা নিয়ে ঝামেলা মেটাতে প্রধান হস্তক্ষেপ করেন। তবে সিপিএম বাইরে থেকে দুষ্কৃতী এনে হামলা চালিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। সেইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়-তা নিয়ে আমরা দলগতভাবে আলোচনা করছি।