সুকান্ত বসু, কলকাতা: কলকাতার পুর-আইনকে অগ্রাহ্য করে একবালপুর থানা এলাকায় একটি বেআইনি বহুতল গড়ে তোলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালে পুর আদালত দুই প্রোমোটারকে দোষী সাব্যস্ত করে দু’বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়। আইনের বিধান অনুসারে কোনও অপরাধীর তিন বছরের কম সাজা হলে, সেই অপরাধী আদালতে জামিনের আর্জি জানালে তা মঞ্জুর করে আদালত। তবে শর্ত হল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধীকে সেই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যেতে হবে। সেই মতো ওই দুই সাজাপ্রাপ্ত প্রোমোটার নিম্ন আদালতের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতার বিচারভবনের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি শেষে শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের প্রথম ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় নিম্ন আদালতের (কলকাতা পুর আদালত) রায়কেই বহাল রাখলেন। আদালতের মন্তব্য, রায়দানের এক মাসের মধ্যে দুই প্রোমোটারকে আত্মসমর্পণ করতে হবে কলকাতা পুর আদালতে। বিচারক তাঁর রায়ে মন্তব্য করেছেন, ‘এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পুর আদালত সমস্ত বিষয় পর্যবেক্ষণ করে যে রায় দিয়েছে, তা যথার্থ।’
বিচারক রায় দিতে গিয়ে ভরা এজলাসে বলেন, ‘পুর-আইনকে অগ্রাহ্য করে বহুতল গড়া হলে তা শহরের পক্ষে ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়াবে। শহরকে কোনও অবস্থাতাতেই কক্রিংটের জঙ্গলে পরিণত হতে দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা কড়া হাতে এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করায় আদালত সন্তোষ প্রকাশ করছে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘পুর-আইন মেনে বাড়ি করলে আমরাই বেশি উপকৃত হব। আমাদের মনে রাখা দরকার, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হলে কেউ বাঁচতে পারব না। তাই নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রাখার মাধ্যমে সমাজে একটা ইতিবাচক বার্তাও যাবে। দুষ্ট চক্রও এই ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকবে।’
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একবালপুর থানার ডেন্ট মিশন রোড এলাকায় ওই বেআইনি নির্মাণটি গড়ে তোলা হয়েছিল। কলকাতা পুরসভা থেকে নোটিস দিয়ে বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। ২০২০ সালে পুরসভার পক্ষ থেকে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করা হয় দুই প্রোমোটার সহ চারজনের বিরুদ্ধে। তদন্ত শেষ করে পুলিস আদালতে চার্জশিট দেয়। মামলায় সাক্ষ্য দেন ছ’জন। ২০২৪ সালে পুর আদালত প্রমাণের অভাবে দু’জনকে খালাস দেয়। বাদবাকি দু’জন অর্থাৎ এই দুই প্রোমোটারকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। এরপরই তাঁরা পুর আদালত থেকে জামিন পেয়ে ওই আদেশের বিরুদ্ধে কলকাতা বিচারভবনের দ্বারস্থ হন।