সংবাদদাতা, বর্ধমান: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জমা রাখা প্রায় দু’কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফ্রিজ করে রাখা দু’টি অ্যাকাউন্ট মুক্ত করার জন্য নির্দেশ দিল আদালত। দু’টি অ্যাকাউন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতিয়ে নেওয়া টাকার বড় অংশ জমা পড়েছে বলে সিআইডির দাবি। একটি অ্যাকাউন্টে এনইএফটি–র মাধ্যমে ১৯ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৯০ টাকা ও অপর একটি অ্যাকাউন্টে ১৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা জমা পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর সিআইডি অ্যাকাউন্ট দু’টি ফ্রিজ করে দেয়। ফ্রিজ হওয়া দু’টি অ্যাকাউন্ট দুই চালকল মালিকের। অ্যাকাউন্ট দু’টি ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন তাঁরা। এরই মধ্যে অ্যাকাউন্ট দু’টির মালিককে তদন্তের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডেকে পাঠান সিআইডির তদন্তকারী অফিসার। সিআইডির দাবি, নোটিস পাওয়ার পরও অ্যাকাউন্ট দু’টির মালিক জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হননি। এরই মধ্যে অ্যাকাউন্ট দু’টি মুক্ত করার জন্য তাঁরা বর্ধমান সিজেএম আদালতে আবেদন জানান। এব্যাপারে সিআইডির বক্তব্য জানতে চান সিজেএম। আদালতের দাঁড়িয়ে তদন্তকারী অফিসার জানান, কীভাবে দু’টি অ্যাকাউন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতিয়ে নেওয়া টাকা ঢুকল তা জানা প্রয়োজন। সেকারণে দুই অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। যদিও অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের আইনজীবী পার্থ হাটি সওয়ালে বলেন, দু’টি অ্যাকাউন্ট অন্যায়ভাবে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। অ্যাকাউন্টের মালিকদের সাক্ষী হিসেবে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁরা মামলায় অভিযুক্ত নন। সাক্ষীদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা যায় না। এরপরই সিজেএম তদন্তকারী অফিসারের কাছে দুই অ্যাকাউন্ট হোল্ডার মামলায় অভিযুক্ত কি না তা জানতে চান। উত্তরে তদন্তকারী অফিসার জানান, জিজ্ঞাসাবাদ না করে এটা বলা সম্ভব নয়। এব্যাপারে তদন্তকারী অফিসারের কাছে ব্যাখ্যা চান সিজেএম। এরপর অ্যাকাউন্টগুলি মুক্ত করার জন্য ফের আবেদন জানানো হয় আদালতে। শনিবার সেই আবেদনের শুনানি হয়। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট দু’টিতে জমা পড়া টাকার সম পরিমাণ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট দু’টি মুক্ত করার জন্য নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার আদালতে বন্ড জমা দিয়েছেন অ্যাকাউন্টের মালিকরা।



