নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আদালতের নির্দেশে ডানকুনিতে খাটাল উচ্ছেদ পুরসভার। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেসিবি দিয়ে চলে উচ্ছেদ অভিযান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছিল পুলিসের বিশাল বাহিনী। রাত প্রায় সাতটা পর্যন্ত শহরের চার এবং আট নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান হয়। ১০টির মতো খাটাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি পুরসভার। বড় ধরনের প্রতিবাদ সংগঠিত না হলেও উচ্ছেদের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ জানান খাটাল মালিকরা। তাঁদের অভিযোগ, গোবর নিষ্কাশন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার অভাবে তাঁদের রুটিরুজি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে।অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ডানকুনিতে চলছে খাটালের ব্যবসা। খাটালের আবর্জনা ডানকুনি খালে ফেলা হয়। ফলে খাল মজে যাচ্ছে। খালটি এই এলাকার নিকাশির অন্যতম মাধ্যম। বৈদ্যবাটি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার পুরসভা ও পঞ্চায়েতের নিকাশির মুখ্য নির্গমণ পথ। ফলে সেটি মজে যাওয়ার নিকাশির সঙ্কট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা হয় পরিবেশ আদালতে। শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশে এদিন খাটাল উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। ডানকুনি পুরসভার চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ মেনে দফায় দফায় সব খাটাল তুলে দেওয়া হবে।’ শরৎ সাহা নামে স্থানীয় একটি খাটালের মালিক বলেন, ‘সরকার যদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করত তাহলে আজ আমাদের রুজি রুটি হারাতে হতো না। আমরা গোবর প্রক্রিয়াকরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের সহযোগিতা পাইনি।’ উচ্ছেদের পর দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকের বক্তব্য, ডানকুনিতে প্রায় ছ’হাজার গবাদি পশু আছে। যা কলকাতার বড় অংশের দুধের চাহিদা মেটায়। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফলে সঙ্কট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র



