Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খোরপোশের বকেয়া টাকা সুদসহ বাবাকে একমাসের মধ্যে মেটাতে নির্দেশ কোর্টের, অমানবিক পুত্রের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিচারক

খোরপোশের বকেয়া পাঁচমাসের টাকা সুদসহ একমাসের মধ্যে বৃদ্ধ বাবাকে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল ক্ষুব্ধ আদালত। সম্প্রতি শিয়ালদহের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম) আদালত ওই নির্দেশ দেয়।

খোরপোশের বকেয়া টাকা সুদসহ বাবাকে  একমাসের মধ্যে মেটাতে নির্দেশ কোর্টের, অমানবিক পুত্রের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিচারক
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খোরপোশের বকেয়া পাঁচমাসের টাকা সুদসহ একমাসের মধ্যে বৃদ্ধ বাবাকে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল ক্ষুব্ধ আদালত। সম্প্রতি শিয়ালদহের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (জেএম) আদালত ওই নির্দেশ দেয়। ছেলের প্রতি আদালতের মন্তব্য, ‘অভিযোগকারী বৃদ্ধ বাবার টাকা না দিলে আদালত আইনি পদক্ষেপ করবে।’ বিচারকের মন্তব্য, ‘আপনি খাচ্ছেন। আপনার বাবা ঠিকমতো খাওয়া‑দাওয়া ও ওষুধপত্র পাচ্ছেন না। আপনার লজ্জা করে না! মানবিকতা কি হারিয়ে ফেলেছেন?’ উত্তরে বেলেঘাটা মেইন রোডের বাসিন্দা ছেলে তপন  সাহা বলেন, ‘কিছু সমস্যার কারণে দিতে পারিনি। এবার দিয়ে দেব। আর একটা ভুল বোঝাবুঝিতে কিছু সমস্যা হয়েছিল। বাবা অভিমান করে দিদির বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। বাবাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাই।’ উত্তরে বিচারক বলেন, ‘আগে আপনি বাবার বকেয়া প্রায় ৩০ হাজার টাকা মেটান, তারপর পরবর্তী আইন মেনে যা করার হবে।’ যদিও আদালতের রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ছেলে তপনবাবু। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বেলেঘাটা মেইন রোডের বাসিন্দা ৬৮ বছরের বৃদ্ধ স্বপন সাহা ছেলের বিরুদ্ধে শিয়ালদহ আদালতে খোরপোশের মামলা দায়ের করেন। বৃদ্ধের অভিযোগ ছিল,‘তাঁর স্ত্রী ছ-বছর আগেই গত হয়েছেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলের কাছেই থাকতাম। কিন্তু পরবর্তীকালে ছেলের শ্বশুরবাড়ির নানা ইন্ধনে আমার প্রতি অবজ্ঞা শুরু হয়। আমি বাধ্য হয়ে মানিকতলায় মেয়ে‑জামাইয়ের কাছে চলে আসি।’

Advertisement

মামলা দায়ের হওয়ার পর তা নিয়ে চলে শুনানি। বিচারক সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করে এক অন্তর্বর্তী রায়ে ছেলেকে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ হাজার টাকা বাবার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযোগকারী বৃদ্ধ বাবা গত পাঁচমাস ছেলের কাছ থেকে  খোরপোশের টাকা না পেয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হন। তারই প্রেক্ষিতে বিচারকের ওই নির্দেশ। স্বপনবাবু বলেন, ‘জীবনের শেষদিকে এসে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে খোরপোশের মামলা করতে হয়েছে, এতে বড়োই খারাপ লাগছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ