শ্লীলতাহানিতে ধৃতদের জামিন একদিনে, পুলিশি গাফিলতিতে ক্ষুব্ধ আদালত
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবায় তরুণীকে গাড়িতে তুলে শ্লীলতাহানির মামলায় তিন অভিযুক্তের জামিন হল। পুলিশি গাফিলতিতেই তাঁদের জামিন হয়। মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে বিচারক এই মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। অভিযুক্তদের প্রত্যককে জামিন দেন এক হাজার টাকার বন্ডে। শোরগোল পড়া এই মামলায় গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধৃতদের জামিন পাওয়া নিয়ে কোর্ট চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও সরকারি কৌঁসুলির সাফাই, ধৃতদের পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কিছু আই঩নি কারণে অভিযুক্তদের জামিন হয়ে যায়। ধৃতদের তরফে আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের অভিযোগ, এই মামলায় পুলিশি তদন্ত আইনসিদ্ধ ছিল না। কারণ পুলিশ যে ধারা‌য় মামলা দায়ের করেছিল, সেই অনুসারে অভিযুক্তদের আইনি নোটিস দিয়ে ডাকার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ সেই মর্মে তাদের পাঠানো হয়নি কোনও নথি (আইনি ভাষায় যাকে বলা হয়ে থাকে ‘চেক লিস্ট’)। আদালতের কাছে আমরা সেই বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করি। বিচারক এই বিষয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেন। জানতে চান তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের বক্তব্য। তিনি আদালতের কাছে কোনও সন্তাষজনক ব্যাখা দিতে পারেননি। বিচারক মামলার কেস‑ডায়েরি দেখতে চান। সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেন এবং সতর্ক করেন তদন্তকারী অফিসারকেও। 

Advertisement

যদিও এই ঘটনায় অভিযুক্ত আর দু’জন এখনও অধরা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। অন্যদিকে, এই মামলায় সরকার পক্ষ থেকে আরজি করা হয় মামলাকারীর গোপন জবানবন্দি নেওয়ার। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। যদিও অভিযুক্তরা এদিন দাবি করেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে তাঁদের।’ পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে কসবা থানার নিউ বালিগঞ্জ রোডে গাড়ির মধ্যে ওই শ্লীলতাহানির অভিযোগটি ওঠে। শনিবার অভিযোগকারিণী থানায় এফআইআর দায়ের করেন পাঁচজনের বিরুদ্ধে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে তিন যুবককে কালিকাপুর এলাকা থেকে পাকড়াও করে। তরুণীর অভিযোগ ছিল, তাঁকে নিউ বালিগঞ্জ রোড থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে শ্লীলতাহানি করে। এরপর তাঁকে ইএম বাইপাসের পিছনে আনন্দপুরের উচ্ছেপোতায় গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সহ যে সমস্ত সামগ্রী পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে, মঙ্গলবার তার সিজার লিস্ট আদালতে পেশ করা হয়। সরকার পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে রাখার আর্জি জানানো হয়। কিন্তু আইনি গাফিলতির কারণে জামিন হয়ে যায় তিন ধৃতের।