Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এপিক থাকলেও তালিকায় নাম নেই, ভোট দিতে পারছেন না দম্পতি

ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও জলজ্যান্ত দু’টি মানুষের নাম নেই ভোটার তালিকায়। যার জেরে গত প্রায় এক দশক ধরে বিষ্ণুপুর শহরের এক দম্পতি ভোট দিতে পারছেন না।

এপিক থাকলেও তালিকায় নাম নেই, ভোট দিতে পারছেন না দম্পতি
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও জলজ্যান্ত দু’টি মানুষের নাম নেই ভোটার তালিকায়। যার জেরে গত প্রায় এক দশক ধরে বিষ্ণুপুর শহরের এক দম্পতি ভোট দিতে পারছেন না। শহরের ১৪১ নম্বর বুথের বাসিন্দা রাহুল সরকার ও তাঁর স্ত্রী চন্দনা সরকারের অভিযোগ, ২০২১ বিধানসভা, ২০২২ পুরসভা, এমনকী ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটও তাঁরা দিতে পারেননি। বুথে গিয়ে বার বার জানানো সত্ত্বেও লাভ হয়নি। সম্প্রতি যে ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতেও তাঁদের নাম নেই। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও ভোট দিতে পারবেন না ভেবে হতাশ তাঁরা। 

Advertisement

বিষ্ণুপুর মহকুমা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এতবছর ধরে ভোট দিতে না পারার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তালিকা থেকে নাম বাদের ব্যাপারেও কোনও অভিযোগ আসেনি। সমস্ত নথি সহ বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে বিনামূল্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁদের নাম তালিকায় উঠে যাবে। আগামী বিধানসভা ভোটে তাঁরা ভোটও দিতে পারবেন। 
রসিকগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪১ নম্বর বুথের বিএলও পুষ্প বিশ্বাস বলেন, কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। বাদ দিতে গেলে ডেথ সার্টিফিকেট জমা করতে হয়। রাহুলবাবুদের ক্ষেত্রে ঠিক কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। শহরের ভৈরবতলার বাসিন্দা রাহুলবাবু বলেন, আমি রং মিস্ত্রির কাজ করি। রোজ সকালে কাজে বেরিয়ে যাই। কয়েকবার সরকারি দপ্তরে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। কাজ কামাই করে বার বার সরকারি দপ্তরে ছুটে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ বুকে বয়ে নিয়েই কাটাচ্ছি। 
রাহুলবাবুর স্ত্রী চন্দনা সরকার বলেন, ২০১৬ সালে আমরা শেষবার ভোট দিয়েছি। তারপর থেকে কোনও অজানা কারণে আমাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। বুথে গিয়েও ভোট দিতে না পারায় ফিরে আসতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বহুবার বিভিন্ন জনকে বলা হয়েছে। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। এবারেও দেখছি নাম নেই। 
পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অতনু মণ্ডল বলেন, দলনেত্রীর নির্দেশে আমরা ভোটার তালিকা ধরে ধরে প্রতিটি বাড়িতে যাচ্ছি। কিন্তু রাহুলবাবু ও তাঁর স্ত্রী’র নাম তালিকায় নেই। তখনই তাঁদের কাছে জানতে পারি যে, গত কয়েকবছর ধরে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। ওঁদের নাম যাতে তালিকায় ওঠানো যায় সে ব্যাপারে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ