নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইউটিউব ঘেঁটেই বাইক চুরির ফন্দি এঁটেছিল বারাসতের যুগল। তাছাড়া, অন্য রাজ্যে কীভাবে এই অপরাধ হয়, সেই সম্পর্কেও খোঁজখবর করেছিল তারা। তবে শেষমেষ সমস্ত পরিকল্পনাই জলে গিয়েছে! অনলাইনে যোগাযোগ করে মিস্ত্রি ডেকে আনার পর অনলাইনেই পেমেন্ট করেছিল তারা। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তাদের পাকড়াও করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এবারই প্রথম তারা এমন চুরি করেছিল। তবুও ঘটনাটি হাল্কাভাবে নিচ্ছে না পুলিশ। এর পিছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যাচাই করা হচ্ছে ধৃতদের কলরেকর্ড।একটি আবাসন থেকে চারলাখি বাইক চুরির অভিযোগে গত শুক্রবার বারাসতের নবপল্লি এলাকা থেকে শিবনাথ দাস ও মোনালিসা অধিকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ধৃত শিবনাথ এমবিএ পাস। মোনালিসা দত্তপুকুরের একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী। মোনালিসা যে আবাসনে থাকত, সেখানেই ছিল বাইকটি। প্রথম থেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিল এই যুগল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের পকেটে টান পড়ে। তারপরও পুজোয় একে অপরকে ভালো উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে তারা বাইক চুরির পরিকল্পনা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। সপ্তাহখানেক ধরে গোটা বিষয়টি নিয়ে তারা পরিকল্পনা করে। সোমবার বারাসত থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে আইসি মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মূলত হাতে মোটা অঙ্কের টাকা পেতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। অনলাইনে মিস্ত্রিদের পেমেন্ট করাতেই অভিযুক্তদের ধরতে আমাদের অনেকটা সুবিধা হয়েছে। এদের আগে কোনও অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার কথা জানা যায়নি। তবে ধৃতদের সব দিক থেকেই জেরা করা হচ্ছে।’ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ধৃতরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। তারা যে দু’টি বাড়িতে ভাড়া ছিল, তার ভাড়াও বেশ চড়া। তাহলে কী এমন ঘটল যে বাইক চুরির মতো অপরাধে নামতে হল, সেটাই ভাবাচ্ছে পুলিশকে। নিজস্ব চিত্র