সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মা ও দেড় বছরের মেয়েকে হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য উঠানে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। ১১ বছর আগের ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের নাম প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ও অনিতা চট্টোপাধ্যায়। দু’জনকে খুনের পর তারা গা ঢাকা দিয়েছিল। প্রায় আট বছর পর ২০২২সালে পুলিস তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সেই থেকে বিচার চলছিল। সমস্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক অনুরুদ্ধ মাইতি তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন। এদিনই বিকেলে তাদের সাজা ঘোষণা হয়। সাজার পাশাপাশি বিচারক ৫০হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছ’মাস কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে এই রায়ে খুশি নয় মৃতের পরিবার।
সরকারপক্ষের আইনজীবী গুরুপদ ভট্টাচার্য বলেন, জয়পুরের গেলিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের মাধবপুর গ্রামে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে খুনের ঘটনাটি ঘটে। প্রদীপ ইলেক্টিক মিস্ত্রির কাজ করত। তার ভাই সন্দীপ গ্রামীণ চিকিৎসক। সম্পত্তিজনিত কারণে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। ২০১৪ সালের ১৬এপ্রিল গ্রামের আইসিডিএস সেন্টার যাওয়ার পথে সন্দীপের স্ত্রী মমতা চট্টোপাধ্যায় ও তাঁদের দেড় বছরের শিশু অনন্যা নিখোঁজ হন। সন্দীপবাবু বাড়িতে তাঁদের দেখতে না পেয়ে প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে গ্রামবাসীরা অনিতার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখে চাপ সৃষ্টি করাতেই সে খুনের কথা স্বীকার করে। জানায়, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে দু’জনকে খুন করা হয়েছে। তারপর পুলিস এসে বাড়ির উঠানে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওইদিনই পুলিস অনিতাকে গ্রেপ্তার করে। প্রদীপ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার এক বছর পর অনিতা জামিনে ছাড়া পেতেই সেও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তারপর দীর্ঘ আট বছর দক্ষিণ ২৪পরগনার মথুরাপুর এলাকায় লুকিয়ে থাকে। ২০২২সালে পুলিস দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে। ওই সময় আইনের হাত থেকে বাঁচতে অনিতা পুলিসের কাছে পাগলের অভিনয় করে। যদিও তার অভিনয় পুলিসের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি। বিচারক দু’জনকেই জেলবন্দি করেন। সেই থেকে মামলা চলছিল। বৃহস্পতিবার তাদের সাজা হয়।
সন্দীপবাবু বলেন, বাবার মৃত্যুর পর আমার মা সরকারি পেনশন পান। তিনি আমার বাড়িতেই থাকেন। সম্পত্তি এবং মায়ের পেনশন হাতাতে দাদা ও বউদি প্রথমে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করে। জানাজানি না হলে আমাকেও হয়তো দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিত। আমার স্ত্রী ও মেয়েকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে তাদের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মৃত্যুদণ্ড দিলে আমি খুশি হতাম।