স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী ইএম বাইপাস। রবিবার গভীর রাতে এই সড়কে স্কুটার থামিয়ে দুঃসাহসিক লুটপাট চালাল দুই দুষ্কৃতী। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা চপার দিয়ে তাঁদের একাধিকবার কোপও মারে। তার জেরে রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। সেই সুযোগে স্কুটারের চাবি, মহিলার ব্যাগ, মানিব্যাগ লুট করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় তিলজলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন যুগল। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে তিলজলা থানা এলাকার উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম ক্রসিংয়ে। দুষ্কৃতীদের চপারের আঘাতে আহত যুগলের নাম দীপঙ্কর সামন্ত ও রণিতা মাইতি। পিকনিক গার্ডেন রোডে একটি ভাড়ার ফ্ল্যাটে লিভ-ইনে থাকেন তাঁরা। বছরের চারেকের সম্পর্ক তাঁদের। কাজ করেন একই অফিসে। রবিবার রাতে কাজ সেরে দু’জনে একসঙ্গে ওই ফ্ল্যাটেই ফিরছিলেন। অভিযোগ, বাইপাসে দুই যুবক বাইকে করে পিছু নেয় তাঁদের। উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম ক্রসিংয়ে তাঁদের স্কুটার আটকায় দুই দুষ্কৃতী। স্কুটার, টাকা, ফোন সহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। দীপঙ্কর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন আচমকা চপার বের করে এলোপাথারি কোপাতে শুরু করে তাঁদের। মারাত্মকভাবে জখম হন তরুণী। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তাঁর সঙ্গীও।
দীপঙ্করের দাবি, চপারের আঘাতে রণিতার কাঁধে গভীর ক্ষত হয়েছে। বাঁ হাত সহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লেগেছে। গভীর রাত হওয়ায় চিৎকার করলেও কারও সাহায্য মেলেনি। সেই সুযোগে যুবকের থেকে স্কুটারের চাবি হাতিয়ে নেয় এক দুষ্কৃতী। তরুণীর ব্যাগও ছিনিয়ে নেয় তারা। অভিযোগকারীর দাবি, তাতে ১২ হাজার টাকা ও রণিতার পরিচয়পত্র সহ একাধিক নথি ছিল। যুবকের ফোনটি প্যান্টের পকেটে থাকায় তা লুট করতে পারেনি দুষ্কৃতীরা। শেষমেশ এক সহকর্মীকে ফোন করেন আহত দীপঙ্কর। ওই সহকর্মী ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে খবর পেয়ে হাসপাতালে চলে আসে তিলজলা থানার পুলিশ। তাঁরা আহত দু’জনের বয়ান রেকর্ড করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সোমবার সকালে যুগলকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থানায় গিয়ে তাঁরা লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তার ভিত্তিতে খুনের চেষ্টা, লুটপাট সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে তিলজলা থানার পুলিশ।
লালবাজার সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। লুটের পর দুষ্কৃতীরা কোন দিকে পালিয়েছে, তা ফুটেজ দেখে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই খবর লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।