নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাতে পড়শি যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিল গৃহবধূ। আচমকা স্বামী চলে আসায় ‘প্রেমিক’কে ধর্ষক সাজিয়ে দেয় গৃহবধূ! এরপর দম্পতি পড়শি যুবককে খুন করে মাথা কেটে ভাসিয়ে দেয় খালের জলে। শরীরের বিভিন্ন অংশ খণ্ড খণ্ড করা হয়। সাতবছর আগে মধ্যমগ্রাম থানার নারকীয় ঘটনার বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত হল দম্পতি। আজ, শুক্রবার তাদের সাজা ঘোষণা করবেন এডিজে- ফাইভ দীপালি শ্রীবাস্তব (সিনহা)। দোষীদের নাম জাকির হোসেন (৫১) ও আর্জিনা বিবি (৪৫)। ঘটনাটি মধ্যমগ্রাম থানার রোহণ্ডা-চণ্ডীগড় গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকার।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ২০১৮ সালে ৬ নভেম্বরের। রোহণ্ডা-চণ্ডীগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ যোজরা গ্রামের গৃহবধূ আর্জিনা বিবি একা বাড়িতে ছিলেন। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পড়শি যুবক আব্দুল হাসানের। সেদিন রাতে স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রেমিককে বাড়িতে ডাকে গৃহবধূ। সেই সময় বাড়ি ফিরে আসেন স্বামী জাকির হোসেন। হাতেনাতে স্ত্রীর কীর্তি ধরে ফেলেন তিনি। কার্যত বেকায়দায় পড়ে আর্জিনা দাবি করে, হাসান তাকে ধর্ষণ করেছে। শুরু হয় দু’পক্ষের তুমুল বচসা। সেই সময়ই আব্দুল হাসানকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। দেহ লোপাট করতে ধারালো চপার দিয়ে প্রথমে দুটি পা কেটে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, মৃতের পরিচয় যাতে কোনওভাবে কেউ বুঝতে না পারে সেই জন্য মুণ্ডও কেটে রেখে দেওয়া হয় জাকিরের গোপন আস্তানায়। দেহ টুকরো টুকরো করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নোয়াই খালে। এদিকে, ৬ নভেম্বর রাতেই আব্দুলের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হয় মধ্যমগ্রাম থানায়। পুলিস তল্লাশি শুরু করে। ৭ নভেম্বর মধ্যমগ্রামের নোয়াই খালে একটি দেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিস এসে দেহ উদ্ধার করে। বিভিন্ন সোর্সকে কাজে লাগিয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস জাকির ও আর্জিনাকে আটক করে। জেরায় তারা ভেঙে পড়ে। গোটা ঘটনাটি স্বীকার করে নেয় তারা। এরপর তাদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার পুনর্নিমাণ করে পুলিস। উদ্ধার হয় মৃত আব্দুল হাসানের মাথা। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুলিস। এ বিষয়ে মামলার সরকারি আইনজীবী সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। খুন, প্রমাণ লোপাট ও কমন ইন্টেনশন এই তিনটি ধারায় মামলা চলে। মোট ১৯ জন সাক্ষী ছিলেন। ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যেই চার্জশিট উদ্ধার জমা পড়ে বারাসত আদালতে। সবরকম সাপোর্ট নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার দম্পতিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। শুক্রবার সাজা ঘোষণা হবে। আমি বিচারকের কাছে দোষীদের সর্বোচ্চ ফাঁসির আর্জি জানাব।