নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সেনা বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়ির এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম প্রশান্ত মজুমদার। বাড়ি জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সানুপাড়ায়। ধৃতের স্ত্রীকেও খুঁজছে পুলিস।
কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, সেনা বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে সেনা বাহিনীর কর্মী বলে ভুয়ো পরিচয় দিয়েছিল। যদিও বাস্তবে সে শ্রমিক সরবরাহের কাজ করে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ধূপগুড়ির ভাণ্ডানি এলাকার বাসিন্দা এক যুবক থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে প্রশান্ত মজুমদার নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেসময় নাম ভাঁড়িয়ে সে নিজেকে সেনা বাহিনীর কর্মী বলে দাবি করে। সেনা বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁকে টোপ দেয় ওই ব্যক্তি। চাকরির আশায় তিন লক্ষ টাকা দেন তিনি। আড়াই লক্ষ টাকা নগদে দেন। ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে, যেটি প্রশান্তর স্ত্রীর নামে ছিল। তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে অভিযুক্ত তাঁকে সেনা বাহিনীতে যোগদানের ভুয়ো নিয়োগপত্র দেয়। বিষয়টি ধরে ফেলায় যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। পরবর্তীতে ধূপগুড়ির ওই যুবক খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, সেনা বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আরও অনেকের কাছ থেকে অন্তত ৪০ লক্ষ টাকা আদায় করেছে খড়িয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি।
পুলিস সূত্রে খবর, টাকা ফেরত পেতে ধূপগুড়ির ওই যুবক বিভিন্ন সূত্র মারফত অভিযুক্ত প্রশান্তর নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করে। অবশেষে গত ১২ এপ্রিল প্রশান্ত টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে ধূপগুড়ির ওই যুবককে ডাকে। জলপাইগুড়ির মাসকলাইবাড়ি এলাকায় তাদের দেখা হওয়ার পর আবারও ছলচাতুরি শুরু করে অভিযুক্ত ব্যক্তি। এমনকী ধূপগুড়ির ওই যুবককে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় সে। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেঁধে যায়। খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে। পরে দায়ের হওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিস।