ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের কাছে হার। চরম লজ্জায় মুখ পুড়ল ভারতীয় ফুটবলের। খালিদ জামিল ব্রিগেডের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে বর্তমানের পাঠকদের জন্য কলম ধরলেন প্রাক্তন ফুটবলার সত্যজিত্ চ্যাটার্জি।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৮৩ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের কাছে হার। চরম লজ্জায় মুখ পুড়ল ভারতীয় ফুটবলের। খালিদ জামিল ব্রিগেডের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে বর্তমানের পাঠকদের জন্য কলম ধরলেন প্রাক্তন ফুটবলার সত্যজিত্ চ্যাটার্জি।
ছোট থেকে এই প্রবাদ শুনে আসছি। মহাকবি কালীদাস গাছের যে ডালে বসেছিলেন, সেটাই নাকি কেটেছিলেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশের কাছে হারের পর খালিদ জামিলকে অনেকটা সেই কালীদাসের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ওকে বুঝতে হবে নিজের নয়, দলের স্বার্থ আগে। এটাই কোচের প্রথম গুণ। কিন্তু ভারতীয় কোচ ইগো সমস্যায় ভোগেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে গোল করার ফুটবলার খুঁজে পাওয়া গেল না। অথচ এই মুহূর্তে দেশের সেরা দুই উইঙ্গার মনবীর সিং ও লিস্টন কোলাসোকে দলে নেয়নি এই খালিদ। কারণ, তারা মোহন বাগানের ফুটবলার। আর সেই ভুল আচরণের মাশুল দিতে হল দেশকে।
ক্লাবের সঙ্গে ফেডারেশনের মতান্তর হতেই পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে তা মিটিয়ে নেওয়া যেত। আসলে অতীতে জাতীয় শিবির থেকে চোট নিয়ে ফিরেছে ফুটবলাররা। সমস্যায় পড়েছে ক্লাব। ফেডারেশন কোনও দায়িত্ব নেয়নি। তাই এক্ষেত্রে সবুজ-মেরুন ম্যানেজমেন্ট কোনও ভুল কথা বলেনি। এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও চেয়েছিলাম আমরা। ফুটবল হাউস সে কথায় কান দেয়নি। উল্টে মোহন বাগানের ফুটবলারদের বাদ দিয়েই হয় দল নির্বাচন। প্রতিপক্ষ যেই দলই হোক না কেন। আগে জয় নিশ্চিত করার মতো দল গড়তে হয়। আমাদের সময় বাংলাদেশ লড়াকু দল ছিল। কিন্তু গত ২০ বছরে ওদের ফুটবল ক্রমশ পিছচ্ছে। ফিফা র্যাঙ্কিংই তার প্রমাণ। কিন্তু মঙ্গলবার তাদেরও হারাতে ব্যর্থ ভারত। প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে এই ফল বেদনার। এই ব্যর্থতা কোচ, ফুটবলারদের পাশাপাশি ফেডারেশনেরও। একটা ঘটনা মনে পড়ছে। ১৯৯৩ সালের নেহরু কাপের জন্য জাতীয় দলে ডাই পায় বাংলা ছয় ফুটবলার। কিন্তু বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গরম হয়ে ওঠে। সমস্যা হয় ট্রেনের টিকিট নিয়েও। ফলে শিবিরে যেতে আমাদের দেরি হয়। নিয়ম মেনে শাস্তিও পাই। আবার পরে তা মকুব হয়। মাঠে নামতে তাই সমস্যা হয়নি। শুনেছিলাম, তৎকালীন সভাপতি প্রিয়দার (প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি) হস্তক্ষেপেই আমাদের শাস্তি ওঠে। আসলে দেশের স্বার্থের জন্যই উনি এই সিদ্ধান্ত নেন। আর খালিদ? ইগোসর্বস্ব মধ্যম মানের কোচ।