নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মিটলেই ২০২৭ সালে পুরভোট। তার আগে আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত কাউন্সিলারদের হোমটাস্ক দিয়ে দিল তৃণমূল। আর এই হোমটাস্ক কোন কাউন্সিলার কেমন করলেন, তার মূল্যায়ণ শেষে মার্কশিট দেখেই পুরভোটের টিকিট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হল দমদম-বারাকপুর তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে।
চলতি মাস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শুরু করেছে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি। গোটা রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচিকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং শিবিরগুলিতে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। গত ৫ আগস্ট তৃণমূলের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করে দলের নির্দেশিকার কথা জানিয়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যার সূত্র ধরেই সোমবার দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি এবং ভোটার তালিকায় সমীক্ষার কাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে কাউন্সিলারদের। সেই ভূমিকার উপর ভিত্তি করেই ২০২৭ সালের পুরভোটে দলের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে মাপকাঠি হবে কাউন্সিলারদের।
সেইসঙ্গে দলের কাউন্সিলার, টাউন ও ব্লক সভাপতিদের জন্য ১২ দফা নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে পাড়া বৈঠক চালু করতে হবে। পাড়ায় পাড়ায় চৌকিতে বসে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ভোটার তালিকা, বাঙালি অস্মিতার উপর আক্রমণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমুখী কর্মসূচিকে বোঝাতে হবে। কোন নেতা দৈনন্দিন কী করছেন, তা ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিতে হবে। এটা খোলাখুলি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দল প্রতিমুহূর্তে কাউন্সিলার এবং অঞ্চল সভাপতিদের ভূমিকার ওপরে বিশেষ নজর রাখছে। দমদম বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পার্থ ভৌমিক বলেন, দলের এই কর্মসূচিতে কাউন্সিলার বা দলের সভাপতিদের ভূমিকা অবশ্যই আগামী পুরসভা নির্বাচনে মাপকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) নিয়ে বৈঠক শুরু করেছেন স্থানীয় বিধায়ক এবং নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে বীজপুর বিধানসভায় ওই বৈঠক হয়ে গিয়েছে। সোমবার নৈহাটির ঐকতান মঞ্চে বৈঠক হল। মঙ্গলবার জগদ্দল বিধানসভায় বৈঠক হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিএলএ’দের নিয়ে বৈঠক শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পার্থ ভৌমিক বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার কাজ জোর কদমে করছি। যাতে ভোটার তালিকায় কারও নাম বাদ না যায়। তার জন্য দলীয় কর্মীদের সজাগ করা হয়েছে। ভিনরাজ্যে বঙ্গভাষীদের উপর আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদে জনমত গঠনে এবার দলের হিন্দি শাখাকে (প্রকোষ্ঠ) প্রচারে নামাচ্ছে তৃণমূল। প্রচারে রাখা হবে—‘আমরা বাংলায় ভালো আছি, তাহলে বাঙালিদের অন্য রাজ্যে আক্রমণ করা কেন হবে?’