


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে বাড়ছে জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশনের খরচ। কারণ, ২০১৯ সালের পর জমি-বাড়ির সার্কল রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে গিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। সার্কল রেট কী? নির্দিষ্ট একটি এলাকায় অবস্থিত জমি-বাড়ির ন্যূনতম মূল্য। এর ভিত্তিতেই ধার্য হয় সম্পত্তি কেনাবেচার রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প ডিউটি সংক্রান্ত মোট খরচ।
সাধারণত প্রতি বছরই সার্কল রেট পুনর্বিবেচনা হয়ে থাকে। তবে কোভিডের জেরে ২০২০ সালে প্রথমবারের জন্য সার্কল রেট পুনর্বিবেচনা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ধুঁকতে থাকা নির্মাণশিল্পকে চাঙ্গা করতে রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটিতে ২ শতাংশ ছাড়ও দিতে হয় রাজ্যকে। গত বছর এই ছাড় প্রত্যাহার করে নবান্ন। তারই পরের ধাপ হিসেবে এবার সার্কল রেট রিভিশনের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। নির্মাণশিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ছ’বছরে গোটা রাজ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নের জেরে ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে জমি-বাড়ির বাজার দর। ফলে রাজ্যের নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে তার বড়সড় ফারাক তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সার্কল রেট বাড়ানো হল ১২ থেকে ৫০ শতাংশ হারে। এলাকার উন্নয়নের উপর ভিত্তি করেই এই বৃদ্ধির হিসেব—এমনটাই ব্যাখ্যা প্রশাসনিক মহলের। মূলত শহর এবং শহরতলিতে এই বৃদ্ধির হার দেখা যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ। তাঁদের কথায়, মহিষবাথান, বরানগর, সোনারপুর, বারুইপুর, নিউটাউন, বেহালা সরশুনা, তপসিয়ার মতো এলাকায় ফ্ল্যাটবাড়ির প্রতি বর্গ ফুটের বাজার মূল্য বেড়েছে ৫৫ থেকে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে সার্কল রেট বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প কোনও পথ ছিল না। এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধিতে গতি আনবে বলেও মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
বর্তমানে যে দামে একটি সম্পত্তি বিক্রি হচ্ছে, তার এক শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। পাশাপাশি, স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয় পাঁচ থেকে সাত শতাংশ। গ্রামীণ এলাকার স্ট্যাম্প ডিউটি ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ। শহর এলাকার জন্য সেটাই ৬ শতাংশ। সম্পত্তির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত ১ শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হয়। অর্থাৎ, অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়ায় ৭ শতাংশে। এবার সার্কল রেট বৃদ্ধির সঙ্গে বাজার মূল্য বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না নির্মাণশিল্প বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু অভিজাত এলাকায় ৮৫০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের দামই এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তখন এর রেজিস্ট্রেশনের জন্য গুনতে হবে অতিরিক্ত এক শতাংশ স্ট্যাম্প ডিউটি। তাহলে কি এর জেরে কমতে পারে জমি-বাড়ি বিক্রি? প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় প্রত্যাহারের সময়ও এমন আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন এবং স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ রাজস্ব আদয় প্রমাণ করেছে, এই আশঙ্কা অমূলক। সার্কল রেট বৃদ্ধির ফলেও এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। কারণ, ২০১৯ থেকে প্রতি বছর সার্কল রেট বাড়লে বর্তমানে সরকারের নির্ধারিত মূল্য এর থেকেও অনেক বেশি হতো। ফলে বাজারে ধাক্কা লাগার মতো আশঙ্কার কারণ নেই।