Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘অনুদানে’র নামে গুজরাতে ১৮৭০ কোটি টাকার দুর্নীতি, তিন অনামী পার্টির বিরুদ্ধে এফআইআর

নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে, কিন্তু ময়দানে কার্যত অস্তিত্বহীন—গুজরাতের এমন ছয়টি রাজনৈতিক দলের ভাঁড়ারে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে জমা পড়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা অনুদান!

‘অনুদানে’র নামে গুজরাতে ১৮৭০ কোটি টাকার দুর্নীতি, তিন অনামী পার্টির বিরুদ্ধে এফআইআর
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমেদাবাদ: নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে, কিন্তু ময়দানে কার্যত অস্তিত্বহীন—গুজরাতের এমন ছয়টি রাজনৈতিক দলের ভাঁড়ারে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে জমা পড়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা অনুদান! কারা, কী কারণে এমন ‘কাগুজে’ দলকে এই বিপুল অনুদান দিল, তা নিয়ে হইচই কম হয়নি। অবশেষে রহস্য ফাঁস! প্রায় ১ হাজার ৮৭০ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি ‘রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল গুজরাত সিআইডি। আয়কর দপ্তরের অভিযোগে ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, কালো টাকা সাদা করতেই ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ওই বিপুল অঙ্কের অর্থকে রাজনৈতিক অনুদান হিসাবে দেখিয়েছিল তিনটি দল। এর ফলে সরকারি কোষাগারের প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এফআইআরে ‘ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল’-এর চার পদাধিকারী, ‘স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি’র সঙ্গে যুক্ত তিনজন এবং ‘গরিব কল্যাণ পার্টি’র আটজনকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল (বিএনজেডি)। তারা ৫৬ হাজার ২৩৮ জন ‘দাতা’র থেকে ১ হাজার ১৪৩ কোটি ৮৫ হাজার টাকা পেয়েছিল। আর তাদের জন্য প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি (এসএপি)। তারা ‘অনুদান’ পেয়েছে ৫১৯ কোটি টাকা। তারা ১৫৫ কোটি টাকা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এফআইআরে বিএনজেডির সভাপতি সুরেন্দ্রকুমার বিষ্ণুভাই গাজেরাকেই প্রধান অভিযুক্ত এবং পুরো চক্রের মূল মাথা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনিই এই পুরো নেটওয়ার্কের তদারকি এবং কমিশনের হার নির্ধারণ করতেন। ঘটনাচক্রে, এই তিনটি দলই ২০১৭ সাল থেকে গুজরাতে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকবারই সেই প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আয়কর দপ্তরের দাবি, এই দলগুলির কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপই নেই। এদের শুধুমাত্র কালো টাকা সাদা করার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। 

Advertisement

কিন্তু কীভাবে চলত এই দুর্নীতি? গুজরাত পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আয়কর আইন অনুযায়ী, যদি কেউ রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেন, তাহলে ১০০ শতাংশ কর ছাড় দাবি করতে পারেন। সেই আইনকে কাজে লাগিয়েই ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ছক সাজিয়েছিল অভিযুক্তরা। অনুদান আসার পর ওই টাকা বিভিন্ন শেল কোম্পানির (কাগুজে সংস্থা) অ্যাকাউন্টে পাঠানো হত। কাগুজে সংস্থাগুলির সাহায্যে খাদ্যশস্য বা অন্য কোনো সামগ্রী কেনার ভুয়ো বিল তৈরি করত অভিযুক্তরা। পরে ওই টাকা নগদে ফের পাঠিয়ে দেওয়া হত সংশ্লিষ্ট দাতাদের কাছে। বদলে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ‘কমিশন’ নিত তিন দলের পদাধিকারীরা। সন্দেহ এড়াতে নির্বাচন কমিশনের কাছেও ভুয়ো নথি জমা দেয় অভিযুক্তরা। 
গুজরাত পুলিশ সূত্রে খবর, দলগুলির সন্দেহজনক গতিবিধির উপর প্রায় দু’বছর ধরেই নজর রাখছিল আয়কর দপ্তর। পুলিশের কাছেও চারটি অভিযোগ জমা পড়ে। আয়কর দপ্তরও পৃথক তদন্ত চালিয়েছে। বর্তমানে ফরেনসিক প্রমাণ জোগাড়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনটি দলের সঙ্গে আরও যাঁরা জড়িত, তাঁদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হবে। সিআইডি সূত্রে খবর, এই ঘটনায় একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোটা টাকার বিনিময়ে তাঁরা কিছু খতিয়ে না দেখে বা সব জেনেও অডিট রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সেই নথিই সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ