আমেদাবাদ: নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে, কিন্তু ময়দানে কার্যত অস্তিত্বহীন—গুজরাতের এমন ছয়টি রাজনৈতিক দলের ভাঁড়ারে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে জমা পড়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা অনুদান! কারা, কী কারণে এমন ‘কাগুজে’ দলকে এই বিপুল অনুদান দিল, তা নিয়ে হইচই কম হয়নি। অবশেষে রহস্য ফাঁস! প্রায় ১ হাজার ৮৭০ টাকার দুর্নীতির অভিযোগে তিনটি ‘রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল গুজরাত সিআইডি। আয়কর দপ্তরের অভিযোগে ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, কালো টাকা সাদা করতেই ভুয়ো নথি ব্যবহার করে ওই বিপুল অঙ্কের অর্থকে রাজনৈতিক অনুদান হিসাবে দেখিয়েছিল তিনটি দল। এর ফলে সরকারি কোষাগারের প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এফআইআরে ‘ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল’-এর চার পদাধিকারী, ‘স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি’র সঙ্গে যুক্ত তিনজন এবং ‘গরিব কল্যাণ পার্টি’র আটজনকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান পেয়েছে ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল (বিএনজেডি)। তারা ৫৬ হাজার ২৩৮ জন ‘দাতা’র থেকে ১ হাজার ১৪৩ কোটি ৮৫ হাজার টাকা পেয়েছিল। আর তাদের জন্য প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্বতন্ত্রতা অভিব্যক্তি পার্টি (এসএপি)। তারা ‘অনুদান’ পেয়েছে ৫১৯ কোটি টাকা। তারা ১৫৫ কোটি টাকা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এফআইআরে বিএনজেডির সভাপতি সুরেন্দ্রকুমার বিষ্ণুভাই গাজেরাকেই প্রধান অভিযুক্ত এবং পুরো চক্রের মূল মাথা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনিই এই পুরো নেটওয়ার্কের তদারকি এবং কমিশনের হার নির্ধারণ করতেন। ঘটনাচক্রে, এই তিনটি দলই ২০১৭ সাল থেকে গুজরাতে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকবারই সেই প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আয়কর দপ্তরের দাবি, এই দলগুলির কোনো রাজনৈতিক কার্যকলাপই নেই। এদের শুধুমাত্র কালো টাকা সাদা করার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।



