নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা, হবিবপুর: বিজেপি পরিচালিত হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতির বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ। সোমবার দুপুরে অভিযোগ পেয়ে বিকেলের মধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। মালদহ জেলা পরিষদের অতিরিক্ত নির্বাহী আধিকারিক শেখ আনসার আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বিডিও এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিককে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলাম। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে থাকলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই নির্দেশের পর প্রাথমিক তদন্তে যা তথ্য উঠে এসেছিল, তার ভিত্তিতে শেষপর্যন্ত টেন্ডার বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার হবিবপুরের বিডিও মনোজ কাঞ্জিলাল বলেন, অফলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এবার ই-টেন্ডার করতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক। সেই মতো প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মালদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মার্চ এবিষয়ে বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জানান পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী তৃণমূলের সদস্যরা। সোমবার ফের এবিষয়ে হবিবপুর ব্লক অফিসে বিডিওর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কেষ্ট মুর্মু, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অজয় গুপ্তা সহ অন্যরা। পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য আবেদন জানান তাঁরা।
এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হবিবপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুখীরানি সাহাকে বারবার ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি তিনি।
সূত্রের খবর, গত ২৯ জানুয়ারি ২৮ টি টাওয়ার লাইটের জন্য পঞ্চায়েত সমিতি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২৫ লক্ষ টাকায় অফলাইন টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়েছিল। বিরোধী তৃণমূলের সদস্যদের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অবৈধ। নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির তরফে। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতি একের পর এক দুর্নীতি করে চলেছে।
পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তৃণমূলের অজয় গুপ্তা বলেন, দুর্নীতির বিষয়টি বিডিওকে আগেই জানানো হয়েছিল। আমরা জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়েছি। অবিলম্বে এই টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য আবেদন করেছি।
বিষয়টি নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রশাসনের সমস্ত ক্ষমতা তৃণমূলের হাতে। পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে সরাসরি বিডিও যুক্ত থাকেন। তাহলে সেখানে কী করে দুর্নীতি করেছে বিজেপি? বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত।
তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কেষ্ট মুর্মুর মন্তব্য, বিধায়ক বিজেপির। পঞ্চায়েত সমিতি বিজেপির দখলে। সেই কারণে দুর্নীতি করতে সাহস পাচ্ছে তারা।