ভোপাল: অঙ্কটা কিছুতেই মেলানো যাচ্ছে না। ব্যাক ক্যালকুলেশন করতে গিয়েও গরমিল থেকে যাচ্ছে একটি জায়গায়। দেওয়াল রং করতে কেন রাজমিস্ত্রির প্রয়োজন পড়বে? অথচ মধ্যপ্রদেশের দু’টি স্কুল রং করতে খরচের যে হিসেব দেওয়া হয়েছে, তার চালানে জ্বলজ্বল করছে রাজমিস্ত্রিদের মজুরিও। এরমধ্যে একটি স্কুলের একটিমাত্র দেওয়ালে রং করা হয়েছে। এজন্য লেগেছে ৪ লিটার রং। কাজ করেছেন মোট ২৩৩ জন মিস্ত্রি! অন্য স্কুলে যে খরচের হিসেব দেওয়া হয়েছে, তা আরও এককাঠি সরেস! শুধুমাত্র ১০টি জানালা ও চারটি দরজা রং করার কাজে লেগেছে ২৭৫ জন রংমিস্ত্রী এবং ১৫০ রাজমিস্ত্রি। স্বাভাবিকভাবেই খরচেই এই হিসেবে মেলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। গোটা ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুই স্কুলের রংয়ের কাজে খরচের হিসেবের হলুদ চালান ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরমধ্যে শহদল জেলার বায়োহরি বিধানসভার এলাকার শাকন্দি গ্রামে সরকারি স্কুলের একটি দেওয়াল রং করা হয়েছে। এজন্য লিটার পিছু ১৯৬ টাকা দামে কেনা হয়েছে চার লিটার রং। মোট খরচ ৭৮৪ টাকা। সেখানে কাজ করেছেন ১৬৮ জন রং মিস্ত্রি। যার জন্য ৬৭ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও ৬৫ জন রাজমিস্ত্রির জন্য খরচ হয়েছে ৩৯ হাজার টাকা। মোট খরচ ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৮৪ টাকা।
পিছিয়ে নেই নিপানিয়া গ্রামের স্কুলটিও। সেখানে ১০টি জানালা এবং চারটি দরজা রং করার জন্য লেগেছে ২৭৫ জন রংমিস্ত্রী এবং ১৫০ রাজমিস্ত্রি। বরাদ্দ ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৫০ টাকা। নিপানিয়া স্কুলের রং করার দায়িত্বে ছিল সুধাকর কনস্ট্রাকশন। ৫ মে খরচের হিসেব দেখিয়ে বরাদ্দ অর্থ তুলে নিয়েছে সংস্থা। এই নিয়ে জেলা শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ফল সিং মারপাচাই বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’টি স্কুলের বিল ভাইরাল হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্র ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’