নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বোর্ড না থাকার সুযোগে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই গঠরা সমবায় সমিতিতে মোট ১০ কোটি ৩৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা তছরুপ হয়েছে। সমবায়ের ম্যানেজার অশোককুমার সামন্ত ওই ঘটনায় অভিযুক্ত। গত ৮ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন ওই সমিতির সম্পাদক অভয়কুমার খাঁড়া। সমিতির ফিক্সড ডিপোজিট থেকে লোন, টার্ম ডিপোজিট, সেভিংস, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং সমিতির সুদের সমূহ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অডিটে ওই তছরুপের ঘটনা সামনে আসতেই হইচই পড়ে যায়। এরপর অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা ফেরানোর জন্য নানাভাবে চাপ তৈরি করা হয়। তাতে অভিযুক্ত ম্যানেজার নিজের ও মায়ের নামে জমি, শ্যালকের নামে থাকা দোতলা বাড়ি এবং নগদ মিলিয়ে ২কোটি ৩৬লক্ষ টাকা সমবায়ে ফিরিয়েছেন। এখনও ৭ কোটি ৪৪ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ফেরানো নিয়ে নিশ্চুপ। এই মুহূর্তে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন বোর্ডের সম্পাদক।
২০১৮ সাল থেকে খারুই গঠরা সমবায় সমিতির বোর্ড ছিল না। দু’টি টার্মে দু’জন কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট অফিসার স্পেশাল অফিসার হিসেবে ওই সমিতির দায়িত্বে ছিলেন। সমিতির সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপক কর্মী হিসেবে অশোককুমার সামন্ত আর্থিক লেনদেনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ। সমিতিতে আমানতকারীদের গচ্ছিত ফিক্সড ডিপোজিটের মতো নকল সার্টিফিকেট বানানো হয়েছিল। নকল সার্টিফিকেট সমবায় অফিসে রেখে আসল সার্টিফিকেট মেচেদায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে জমা করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়। মেচেদায় অবস্থিত ওই বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মীদের ভূমিকাও তদন্ত সাপেক্ষ। তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের একটি ইন্সপেকশন টিম ওই সমবায় সমিতির কারচুপির ধরন দেখে চমকে যায়। এরপর স্পেশাল অডিটর দিয়ে অডিট করানো হয়। তাতে জানা যায়, কারচুপির পরিমান ১০কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা।
জানা গিয়েছে, টার্ম ডিপোজিটে জমা ৩ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা, সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা ৭৭ লক্ষ টাকা, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা আড়াই লক্ষ টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট থেকে লোন ৪ কোটি ৮৪লক্ষ টাকা, বিভিন্ন টার্ম ডিপোজিটে সুদ বাবদ জমা ৪৬ লক্ষ টাকা, তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের শাখা থেকে চার লক্ষ টাকা তছরুপের ঘটনা ঘটেছে। চার বছরের বেশি সময় বোর্ড ছিল না। তারপর ২০২৩ সালের ১৯ এপ্রিল ওই সমবায়ে বোর্ড গঠন হয়েছে। বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পরই অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত ম্যানেজার নিজের নামে থাকা ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি জমির দলিল সমবায়ের অনুকূলে হস্তান্তর করেছেন। অভিযুক্তের মায়ের নামে ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের আট ডেসিমল জমিও সমবায়ের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযুক্তের শ্যালকের নামে আট ডেসিমল জমির উপর একটি দোতলা বাড়ি সমবায়ের নামে হস্তান্তর হয়েছে। ওই বাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে, ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও কয়েক দফায় নগদ অর্থ দিয়েছেন। এভাবে মোট ১কোটি ৩৬লক্ষ টাকা দেওয়ার পর ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অভিযোগকারী সমবায় সমিতির সম্পাদক আমানতকারীদের বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। বোর্ড না থাকার সুযোগে বিপুল আর্থিক প্রতারণা ঘটেছে। আমরা চাই, সমবায় সমিতি স্বাভাবিক ছন্দে চলুক। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির শাস্তি হোক। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত অশোক সামন্তের মোবাইল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।