সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিজয়া দশমী। কৈলাসে পাড়ি দিয়েছেন উমা। সকলের মনেই দুঃখ। এই মন খারাপের সময় আরও একটি দুঃখের খবর মুহ্যমান করে দিয়েছে বাগনানকে। বাগনানের হাজার চল্লিশের মা মাধুরী ঘোষ প্রয়াত হয়েছেন। বুধবার রাতে বাঙালপুরে নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় তাঁর। মাধুরীদেবী ছিলেন সমবায় আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী। ছিলেন বাগনান এক নম্বর ব্লক মহিলা বিকাশের সম্পাদিকা।
১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে মাধুরীদেবীর সংগ্রাম শুরু। তাঁর লক্ষ্য ছিল, মহিলাদের উন্নতিকরণ। ভালো থাকতে প্রাথমিকভাবে মেয়েদের শিক্ষিত হওয়া জরুরি। তা হলেই তাঁরা উপার্জনক্ষম হতে পারবেন। এই লক্ষ্যে মাধুরীদেবী ১৯৯৫ সালে বাগনান এক নম্বর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর দল গঠনের কাজ শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয় বাগনান এক মহিলা বিকাশ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড। ৫৮৯ সদস্যা এবং এক লক্ষ টাকা শেয়ার নিয়ে গঠন হয় সমবায়। মহিলাদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ব্লকের বাসিন্দা কোনো মহিলা ১০ টাকার শেয়ার ও ১০ টাকা দিয়ে একটি পাসবই খুলে সমবায়ের সদস্য হতে পারতেন। এখন দলের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। মূলধন ১০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। ২ হাজারের বেশি স্বনির্ভর দলের ৭০ শতাংশ মহিলা কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত।
মাধুরীদেবী স্বনির্ভর দলকে বুঝিয়েছিলেন, কেবল সঞ্চয় করলে বা ঋণ নিলে দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি ঘটবে না। উপার্জন বাড়াতে উৎপাদন ও বিপণনের উপর জোর দিতে হবে। সেইমত ১৯৯৬ সালে শুরু হয় উৎপাদন ও বিপণন। যা পরবর্তীতে আপনা বাজার হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৭ সালে মাধুরী আরও একটি সমবায় তৈরি করেন। সেটির নাম বাগনান এক মহিলা বিকাশ কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। এর বিক্রি এখন বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই দু’টি সমবায় তৈরি করে মাধুরীদেবী বাগনানে নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। মহিলা ক্ষমতায়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি গডফ্রে ফিলিপস ব্রেভারি অ্যাওয়ার্ড পান। তাঁর তৈরি মহিলা বিকাশ কো-অপারেটিভ পাঁচবার পশ্চিমবঙ্গের মহিলা কো-অপারেটিভের সম্মান পায়।



