সংবাদদাতা, কল্যাণী: চলতি মাসেই কল্যাণীতে বাণিজ্যিকভাবে পাইপ লাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস (পিএনজি বা পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস) সরবরাহ শুরু হচ্ছে। রাজ্যে প্রথম কল্যাণী শহরেই শুরু হচ্ছে এই পরিষেবা। পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রথতলা এলাকায় প্রায় ১০০টি বাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে যাবে। এই বাড়িগুলিতে ইতিমধ্যে গ্যাসের মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানা গিয়েছে, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরিষেবা চালু হয়ে গেলে কল্যাণী পুরসভার ৯, ১১, ১২ এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আরও ৫০০ বাড়িতে পিএনজি সংযোগ দেওয়া হবে। সব ঠিকমতো চললে নদীয়ার অন্যান্য অংশে এবং আশপাশের জেলাগুলিতে শুরু হয়ে যাবে এই কাজ।
বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিসিএল) কেএমডিএ এলাকায় পাইপ লাইনে বাড়ি বাড়ি গ্যাস সরবরাহের প্রকল্প কল্যাণী থেকে শুরু করছে। ‘গেইল’ এবং রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন ‘ক্যালকাটা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বিজিসিএল। তারা অবশ্য নিউটাউনের দু’টি আবাসনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। তবে রাস্তার ধারে মাটি খুঁড়ে পাইপ লাইন পেতে বাড়ি বাড়ি রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার কাজ কল্যাণীতেই প্রথম হতে চলেছে।
এর জন্য ইতিমধ্যে কল্যাণী সেন্ট্রাল পার্কের চারপাশে প্রায় ২২ কিলোমিটার অঞ্চলে মাঝারি ঘনত্বের পলি-ইথিলিন (এমডিপিই) পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। পিএনজি সংযোগ পেতে গ্রাহকদের দিতে হবে ৬ হাজার ৩০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে জিএসটি। গ্যাসের দাম পড়বে প্রতি ঘন মিটারে ৫১ টাকা। গ্যাসের খরচ অনলাইনে মেটানোর সুবিধাও পাবেন গ্রাহকরা। তবে কলকাতার বাসিন্দারা কবে থেকে এই পরিষেবা পাবেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। বিজিসিএল-এর সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘কল্যাণীতে সরাসরি পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে তার জন্যই কাজ চলছে। পরবর্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু হবে।’ তাঁর দাবি, পরিষেবা চালু হয়ে গেলে বাড়ি বাড়ি জলের লাইনের মতোই মিলবে রান্নার গ্যাস। নিয়মিত সিলিন্ডার বুকিং বা ডেলিভারির ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন গ্রাহকরা। নিজস্ব চিত্র