সংবাদদাতা, বসিরহাট: সুন্দরবনের দেশীয় ফসল নিয়ে অভিনব রান্না প্রতিযোগিতা হল। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের ৯ নম্বর স্যান্ডেলের বিল এলাকায়। উদ্দেশ্য ছিল অব্যবহৃত, অবহেলিত অথচ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দেশি ফসলগুলিকে নতুন করে সমাজের সামনে তুলে ধরা। বর্তমানে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অনেক পুষ্টিকর দেশীয় শাকসব্জি ও ফসল, যেমন খাম আলু, সজনে পাতা, নোটে শাক, বিভিন্ন জাতের কচু–ধীরে ধীরে রোজকার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হল আধুনিক খাদ্যসংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতি উদাসীনতা।
এই পরিপ্রেক্ষিতে হিঙ্গলগঞ্জের এই রান্না প্রতিযোগিতা ছিল এক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ। সুন্দরবনের নারীরা হাতে-কলমে দেখালেন, কীভাবে এইসব ফসলকে ব্যবহার করে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করা যায়।
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মহিলা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এই প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী ‘রেসিপি’ বা ‘রান্নার কৌশল’ নিয়ে হাজির হন। কেউ তৈরি করেন সজনে পাতার চপ, কেউ খাম আলুর ঝোল, কেউ আবার নোটে শাক দিয়ে পিঠে বা বড়া। অনেকেই কচু শাক দিয়ে মাছের ঝোল বা নিরামিষ তরকারি তৈরি করেন, যা একদিকে পুষ্টিকর এবং রুচিকর। প্রতিযোগীরা প্রতিটি পদ পরিবেশনের সময় তার পুষ্টিগুণ, গুরুত্ব এবং রান্নার প্রণালী ব্যাখ্যা করেন। নিজস্ব চিত্র