নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মোবাইল হারিয়ে তিন লক্ষ টাকা খোয়ালেন পুরুলিয়া শহরের এক রাঁধুনি। এনিয়ে গত মঙ্গলবার পুরুলিয়া টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ঠাকুর ওঝা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মোবাইল হারিয়ে তিন লক্ষ টাকা খোয়ালেন পুরুলিয়া শহরের এক রাঁধুনি। এনিয়ে গত মঙ্গলবার পুরুলিয়া টাউন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ঠাকুর ওঝা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী পুরুলিয়া শহরের নাপিত পাড়ার বাসিন্দা। পেশায় রাঁধুনি। তাঁর অভিযোগ, গত ১১ এপ্রিল তিনি পুরুলিয়ার বড়হাটে বাজার করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর ফোনটি হারিয়ে যায়। চার পাঁচদিন পর তিনি নতুন ফোন কেনেন। পুরাতন সিমটি বন্ধ করে নতুন সিমকার্ড নেন। ঠাকুরবাবু বলেন, গত সোমবার আমি ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারি, অ্যাকাউন্টে এক টাকাও নেই। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দু’লক্ষ ৯৮হাজার ৮৩৭টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সাইবার পুলিসের অধিকাররিকরা জানাচ্ছেন, এখন প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই ফোন নম্বর যুক্ত করা রয়েছে। তাই সাইবার প্রতারকদের কাছে প্রতারণার এই স্টাইলই বর্তমানে ‘ট্রেন্ডিং’। প্রথমে মোবাইল চুরি, তারপর তা থেকে সিমকার্ড বের করে অন্য ফোনে লাগানো হচ্ছে। টাকা হাতাতে এখন মূলত প্রয়োজন হয় ওটিপির। সিমকার্ড তো প্রতারকদের কাছেই রয়েছে। ফলে একটি ফোন চুরি করতে পারলেই লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা প্রতারকদের কাছে ‘নস্যি’।
এক আধিকারিকদের দাবি, মোবাইল চুরিতে মূলত বাচ্চাদের কাজে লাগাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। টাকার লোভ দেখিয়ে বাচ্চাদের দিয়ে মোবাইল চুরি করানো হচ্ছে। এই বাচ্চারা বিভিন্ন হাটবাজার, ভিড়, মেলায় ঘুরে বেরিয়ে মোবাইল চুরি করছে।
কেন ছোট ছোট বাচ্চাদের ব্যবহার করা হচ্ছে? ওই আধিকারিকের দাবি, বাচ্চারা ধরা পড়লেও চট করে তাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না। তাদের দেখলে চোর ভাবা যায় না। সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারকরা। পুলিসের সতর্কবার্তা, মোবাইল চুরি হলেই যেন সিমকার্ড ব্লক করা দরকার। তারপর যোগাযোগ করতে হবে ব্যাঙ্কের সঙ্গে। ওই ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থেকে যাতে কেউ টাকা না তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। একবার টাকা ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব হয়ে গেলে তখন থানায় অভিযোগ করেও আর কিছু করা যাবে না।