নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: শনিবার কোচবিহারের বড়দেবীর মন্দিরে গৃহারম্ভ পুজোর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। ৫০০ বছরের বেশি পুরনো এই পুজো আর পাঁচটা দুর্গাপুজোর থেকে রীতি নিয়মে অনেকটাই আলাদা। দেবীর গড়ন, মূর্তি গড়ার পদ্ধতি, পুজোর নিয়মাবলী, মহিষ বলি সহ আরও নানা কারণে বড়েদেবীর পুজোর মাহাত্ম্যই আলাদা। রাজ আমলে মহারাজারা বড়দেবীর পুজোর আগে এই গৃহারম্ভ পুজোর সূচনা করেছিলেন। যা আজও রীতি মেনে একই ভাবে চলছে। এদিকে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মদনমোহন মন্দিরে বিশেষ পুজো ও বিষহরি পালার সূচনা হয়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মদনমোহন মন্দিরে ছিল বহু মানুষের ভিড়।
কোচবিহারের মহকুমা শাসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেবীবাড়িতে বড়দেবীর মন্দির প্রাঙ্গণে গৃহারম্ভ পুজো হয়েছে। যখন বড়দেবীর পুজোর জন্য স্থায়ী মন্দির ছিল না তখন সেখানে সাময়িক মণ্ডপ বানিয়ে পুজোর কাজ শুরু হতো। পরে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণ ভূপবাহাদুরের আমলে বড়দেবীর স্থায়ী মন্দির তৈরি হয়। কিন্তু গৃহারম্ভের পুজো তার আগে থেকেই প্রচলিত আছে। আজও সেটা করা হয়। পাশাপাশি মদনমোহন মন্দিরে মনসাপুজোর ঘট স্থাপন হয়েছে। মনসাপুজো উপলক্ষ্যে বিষহরি গানের আসর বসবে। যাঁরা পালা করেন ও বাদ্য বাজান তাঁরা এসে গিয়েছেন। আজ থেকেই তা শুরু হয়েছে। জন্মাষ্টমীর বিশেষ পুজো মদনমোহন মন্দিরে ধুমধাম করে পালিত হয়েছে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি হয়েছে।
মদনমোহন মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে দীনেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বড়দেবীর মন্দিরে গৃহারম্ভ পুজো করেন। রাজ আমল থেকেই কোচবিহারে বড়দেবীর পুজোর বিভিন্ন রীতি প্রচলিত রয়েছে। যা আজও পালিত হয়ে আসছে। এদিকে, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মনসা পুজোর ঘট বসেছে। ভেটাগুড়ি থেকে মনসা পুজো উপলক্ষ্যে মণ্ডুষ আসবে। ধীরেন্দ্র মালাকার সেই মণ্ডুষ বানাচ্ছেন। ১৭ আগস্ট ঘটপুজো ও ১৮ আগস্ট মণ্ডুষে পুজো হবে। মনসা পুজো উপলক্ষ্যে ১৭ থেকে ১৯ তিন দিন মন্দিরে বিষহরি পালা হবে। এদিন বাঁশী বাজিয়ে তার সূচনা হয়। সাড়ে ৭টায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মদনমোহনের বিশেষ পুজো হয়। আলোয়, বাজনায়, ভক্ত সমাগমে এদিন সন্ধ্যার পর মদনমোহন মন্দির জমজমাট
হয়ে ওঠে।