Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কোচবিহার: মেডিক্যাল চত্বর নোংরা করলেই জরিমানা

কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজের রাজ আমলের সুদৃশ্য বাড়িটি বাইরে থেকে দেখতে আভিজাত্যপূর্ণ। চত্বরটিও সুবিশাল।

কোচবিহার: মেডিক্যাল চত্বর নোংরা করলেই জরিমানা
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণ মেডিক্যাল কলেজের রাজ আমলের সুদৃশ্য বাড়িটি বাইরে থেকে দেখতে আভিজাত্যপূর্ণ। চত্বরটিও সুবিশাল। ঐতিহ্যপূর্ণ এই বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় কোথাও দেওয়ালে পানের পিক, কোনও জায়গায় আবার গুটকার দাগ লেগে। দুধসাদা বাড়িটির ভিতরের থাকা সিঁড়ির কোণে কোণে রয়েছে দীর্ঘদিনের সেই দাগ। 

Advertisement

কেন এমন হাল? ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না এমনটা তো নয়! আসলে বারবার সতর্ক করার পরেও একাংশ রোগীর আত্মীয় নিষেধ শোনে না। তারাই হাসপাতালের ভিতরে যেখানে সেখানে পিক ফেলে, নোংরা করে। এই সমস্যা থেকে বের হতেই এবার জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে আসা অধিকাংশ মানুষই গরিব। সেই কথা মাথায় রেখে জরিমানার পরিমাণ ২০০ টাকার মধ্যে রাখা হবে। কে হাসপাতাল চত্বর নোংরা করছে, তা দেখার জন্য সিসি ক্যামেরার মনিটরে চোখ থাকবে কর্তৃপক্ষের। এজন্য প্রচুর ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এছাড়াও যত্রতত্র বাইক, সাইকেল পার্কিংয়ের উপরেও নজর রাখা হবে এখন থেকে। 
এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডাঃ সৌরদীপ রায় মঙ্গলবার বলেন, মেডিক্যাল কলেজ চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটা আমাদের সকলের কর্তব্যে। যারা এখানে পিক ফেলবে তাদের সর্তক করতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ এসব করে তাহলে এবার থেকে সরাসরি জরিমানা গুণতে হবে তাকে। 
কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এখানে সব মিলিয়ে পাঁচশোর বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। এমজেএন ভবনের সামনের অংশেও রয়েছে সুপার স্পেশালিটি ওপিডি। রয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার ইউনিট। রোগীদের সঙ্গে আসেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন মেডিক্যালে আসে। এদেরই একাংশ হাসপাতালে যত্রতত্র নোংরা করে। যার কারণে ক্যাম্পাস অপরিষ্কার হয়ে যায়। এই মানুষেরাই যখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যায় তখন সেখানকার নিয়মকানুন বেশ ভালোভাবেই পালন করে। কিন্তু সরকারি পরিকাঠামোয় প্রবেশ করলে অনেকেই এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিতে উদাসীন হয়ে যায় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি। 
কয়েকদিন আগেই এমজেএন ভবনে প্রায় একশোটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড চিহ্নিতকরণ, দিক নির্দেশের পাশাপাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবার মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ একধাপ এগিয়ে জরিমানার পথে হাঁটতে যাচ্ছে। শুধু সতর্কীকরণে এই দীর্ঘদিনের অভ্যাসকে পরিবর্তন করা কঠিন হবে মনে করছে তারা। আগামী দিনে হাসপাতালে আরও অত্যাধুনিক পরিষেবা প্রদান করা হবে। উল্টো দিকে থাকা বিরাট কোভিড বিল্ডিংটি ঝাঁ চকচকে অবস্থায় চালুর অপেক্ষায়। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল চত্বরে যদি যত্রতত্র নোংরা থাকে তাহলে সবদিক থেকেই সেটি বিসদৃশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ