Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উল্টোডাঙায় নাবালিকা অপহরণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, কিশোরকে ৬ মাস মেডিক্যাল কলেজে সেবা করার নির্দেশ জুভেনাইল বোর্ডের

বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এক কিশোরকে অভিনব ও দৃষ্টান্তমূলক ‘সাজা’ দিল কলকাতার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড

উল্টোডাঙায় নাবালিকা অপহরণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, কিশোরকে ৬ মাস মেডিক্যাল কলেজে সেবা করার নির্দেশ জুভেনাইল বোর্ডের
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এক কিশোরকে অভিনব ও দৃষ্টান্তমূলক ‘সাজা’ দিল কলকাতার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড। ওই কিশোরকে ছ’মাস কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে হবে। তবে বোর্ডের নির্দেশ, এই কাজের জন্য ওই কিশোর কোনও পারিশ্রমিক পাবে না। গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন জাস্টিস বোর্ড নিযুক্ত বিশেষ অফিসার। তিনি কিশোরের কাজকর্ম নিয়ে বোর্ডের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুসারে রিপোর্টও দেবেন। সরকারি আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, ‘ওই কিশোরকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে এমন মানবিক আদেশ অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক।’ 

Advertisement

কিন্তু কোন অপরাধের জন্য এমন ‘শাস্তি’ কিশোরের? পুলিস ও বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে উল্টোডাঙা থানা এলাকায় এক নাবালিকা কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায় কিশোর। অপহরণের মামলা দায়ের করে থানা। বয়স নির্ধারণের পর জানা যায় অভিযুক্ত আসলে নাবালক। তাই মামলার শুনানি হয় জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। পরবর্তী সময়ে পুলিস তদন্ত শেষ করে চার্জশিট পেশ করে। চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। সেখানে অভিযুক্ত পক্ষের তরফে নাবালককে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। বলা হয়, বয়স ও ভব্যিষতের কথা চিন্তা করে বোর্ড বিষয়টি বিবেচনা করলে ভালো হয়। অন্যদিকে, সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলায় অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে। আছে যথেষ্ট তথ্য‑প্রমাণও। তাই মামলায় চার্জ গঠন করে শুনানি চলুক। সরকারি কৌঁসুলি জানান, এই মামলার শুনানিপর্বে সরকার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সাক্ষীকে আদালতে পেশ করা হয়। দীর্ঘ বিচারপর্বের শেষে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড সম্প্রতি কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে। তারপরই বোর্ড এই ‘মানবিক’ রায় দিয়েছে। রায়ে সন্তুষ্ট সরকার পক্ষ। খুশি কিশোরের পরিবারও।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ডঃ নীরদরঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের এই রায় কিশোরের পরিবারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। হাসপাতালের নানা সেবামূলক কাজের মধ্যে দিয়ে কিশোরটি বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাবে। সমাজে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে কিশোর-কিশোরীরা অপরাধ ঘটালেও পরবর্তী সময়ে নিজেকে নানাভাবে মেলে ধরেছে। আগামী দিনে এই কিশোরটি সে পথেই পা বাড়াবে, এটাই আমাদের আশা ও প্রত্যয় হওয়া উচিত।’     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ