নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সকাল হলেই বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে পুরসভা। এতদিন সেই বর্জ্য সংগ্রহের জন্য টাকা নেওয়া হত না। এবার উত্তর দমদমের নাগরিকদের কাছ থেকে আবর্জনা সংগ্রহের ‘ফি’ বা কর নেবে পুরসভা। প্রতিদিন ১ টাকা অর্থাৎ মাসে ৩০ টাকা নেওয়া হবে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন দোকান থেকেও পৃথকভাবে এই টাকা নেওয়া হবে। পালাবদলের পর কর চালু হওয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও পুরসভার দাবি, সুডার নির্দেশ অনুযায়ী এই পরিষেবা ফি নেওয়া হচ্ছে।
পুরসভার তরফে নোটিস দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে রাজ্য নগরোন্নয়ন সংস্থার নির্দেশ মোতাবেক সেপ্টেম্বর মাস থেকে শহর জুড়ে আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে পরিষেবা ফি নেওয়া হবে। প্রত্যেক বাড়ি থেকে মাসিক ৩০ টাকা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে আবর্জনা সংগ্রহের জন্য এই ফি নেওয়া হবে। নাগরিকরা পুরসভার কর্মীদের অনলাইন বা অফলাইনে টাকা দিতে পারবেন। পুরসভা সূত্রের খবর, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলতে মূলত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানকে বলা হয়েছে। ব্যবসার ধরন ও আয়-ব্যয়ের উপর নির্ভর করে তিন ধরনের ক্যাটিগরিতে তাদের থেকে ওই টাকা ধার্য করা হবে। কর্তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ এই টাকা দিলে পুরসভার কর্মীদের তারা নজরদারিতে রাখবেন। যদিও শহরবাসীর দাবি, পালাবদলের পর পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা নিয়মিত মাইনে পাচ্ছে না। পুর পরিষেবা শিকেয় উঠেছে। একাধিক বার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কর্মীরা। এই আবহে ঘুরপথে শহরবাসীর থেকে টাকা তুলে অস্থায়ী কর্মীদের মাইনে দেওয়া হচ্ছে। এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল অবস্থা শহরবাসীর। তার উপর পুজোর আগে জঞ্জাল সংগ্রহের নামে নতুন করে মাসিক ফি বা কর বসায় সমস্যা আরও বাড়বে। যাঁদের দোকান রয়েছে, তাঁদের বাড়ির ও দোকানের জন্য আলাদা আলাদা টাকা দিতে হবে। অনেকেই এই ফি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।