Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, সরানো হল সিবিএসই চেয়ারম্যানকে

অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের কারণে সিবিএসই চেয়ারম্যান রাহুল সিং পদত্যাগ করেছেন। বিস্তারিত জানুন।

অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক,  সরানো হল সিবিএসই চেয়ারম্যানকে
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উত্তরপত্র মূল্যায়ন বিভ্রাট এবং অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় সামাল দিতে নামল ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট। গড়া হল এক সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি। ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারপার্সন শ্রীমতী এস রাধা চৌহানের সভাপতিত্বে এই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে কেন্দ্রকে রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শিক্ষামন্ত্রক নয়। খোদ কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিবালয় ওএসএম নিয়ে অভিযোগের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিল। এও খবর, ওএসএম বিতর্ক বাড়তে থাকায় সিবিএসই’র চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিবিএসই’র নতুন চেয়ারম্যান হলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব লোখান্ডে প্রশান্ত সীতারাম। 

Advertisement

শিক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ দিগ্বিজয় সিংয়ের সভাপতিত্বে বসেছিল বৈঠক। মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল ঝাড়খণ্ডের রাঁচির ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্তকে। ডাকা হয়েছিল সিবিএসই’র চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং বিদ্যালয় শিক্ষাসচিব সঞ্জয় কুমারকেও। সেখানে হাজির সদস্য সাংসদদের সামনে সার্থক পেশ করেন ওএসএমের বরাত সংক্রান্ত ১১ পাতার প্রেজেন্টেশন। দেখানো হয় সেখানে কমপক্ষে ১৫টি খুঁতে রয়েছে। যা দেখে কোনো জবাব দিতে পারলেন না সিবিএসসি’র চেয়ারম্যান। ১৭ বছরের ‘জেন জি’ সার্থকের সামনে চুপ করে রইলেন বিহার ক্যাডারের আইএসএ অফিসার ৫৪ বছরের রাহুল সিং। স্রেফ জানালেন, আমি লিখিত জবাব দেব। 
বৈঠকে দিগ্বিজয় সিং যেমন সরকারি সচিব এবং সিবিএসসি’র চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান, থ্রি ল্যাঙ্গোয়েজ নীতি পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই কেন এত তাড়াহুড়ো করে ওএসএম চালু করতে গেলেন? একইভাবে বিজেপির কামাক্ষ্যা প্রসাদ, শোভনাবেন বারাইয়া, সমাজবাদী পার্টির জিয়াউর রহমান, ডিএমকে’র টি সুমতির মতো সাংসদও সিবিএসই’কে চেপে ধরেন। জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে টিসিএস’কে বাদ দিয়ে নতুন কোম্পানি কোএম্পেট এডুটেক’কে ওএসএমের বরাত দেওয়া হয়েছিল? কারো চাপ ছিল? কেন বরাতের নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল? 
ত্রুটিপূর্ণ ওএসএমের কারণেই এবার দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল অপেক্ষাকৃত খারাপ হয়েছে বলেই ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ। তাই ওএসএম প্রক্রিয়ার অন্বেষণে নামেন কোডিং কৌতুহলী সার্থক। একইসঙ্গে নিস্বর্গ। যে নিজেকে ‘এথিক্যাল হ্যাকার’ বলেই পরিচয় দেয়। অর্থাৎ দেশকে সতর্ক ও সচেতন করতেই হ্যাকিং। হুইসেল ব্লোয়ার। দৃষ্টি আকর্ষণ করা। মঙ্গলবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ডেকে পাঠানোয় পুত্র সার্থককে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন মা স্বরাজ প্রিয়া। সঙ্গে ছোট ছেলে আদর্শ। একান্তে বললেন, ‘সার্থক আর বেঙ্গালুরুর বাঙালি ছেলে নিস্বর্গ কিন্তু কেউ কাউকে বাস্তবিক চেনে না। অনলাই঩নেই ওদের আলাপ। বাঙালি বন্ধু নিস্বর্গকে পেয়েই ওএসএম ইস্যুতে দুজনে কাজ করেছে। ছেলের জন্য যেমন গর্ব হচ্ছে, সঙ্গে টেনশনও। কেন? জানতে চাওয়ায় উদ্বিগ্ন চোখেমুখে বললেন, চক্রব্যূহে প্রবেশ করছে না তো? চিন্তা এটাই, সরকারের সিস্টেমের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় আমার ছেলে যেন কোনো বিপদে না পড়ে।’ সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর  ১০ জনপথে ডেকে সার্থকের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। আশ্বাস ও অভয় দেন কোনো ভয় নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ